বিলের সমর্থন নিয়ে রণকৌশল বদল? এনডিএ-র দোরগোড়ায় মহারাষ্ট্রের রাজনীতি, চাপে পড়ছে ইন্ডিয়া জোট

সংসদীয় রাজনীতির অন্দরে এখন তুমুল শোরগোল। আগামী ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে চলেছে সংসদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাদল অধিবেশন। এই অধিবেশনকে কেন্দ্র করে যেমন শাসক শিবিরে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে, তেমনই বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র অন্দরে ক্রমশ বাড়ছে অস্বস্তি ও ফাটলের খবর। একের পর এক শরিক দলের মতিগতি বদল বিরোধী শিবিরে বড়সড় অস্তিত্বের সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শাসক দলের অন্দরমহল সূত্রে খবর, এই অধিবেশন চলাকালীন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করানোর লক্ষ্যে চরম তৎপরতা শুরু করেছে এনডিএ শিবির। রণকৌশল ঠিক করতে আগামীকাল, ১৭ জুলাই প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং এনডিএ-র শীর্ষমন্ত্রীদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠকে বসছেন। চলতি বছরের নিট (NEET) বিতর্ক, রাম মন্দির প্রসঙ্গ এবং ইথানল নীতি নিয়ে বিরোধী দলগুলো যে তীব্র আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তার মোকাবিলা করতে কীভাবে শরিকদের একজোট রাখা যায়, সেই বিষয়টিই এই বৈঠকে অগ্রাধিকার পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে অধিবেশনের আগে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে মহারাষ্ট্রের রাজনীতি থেকে। ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাস বিল নিয়ে কেন্দ্রের মোদী সরকারের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়ে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের হাওয়া বইয়ে দিয়েছেন শরদ পাওয়ারের এনসিপি। সূত্রের খবর, মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীসের সঙ্গে এনসিপি নেতৃত্বের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। এনসিপি-র কার্যকরী সভাপতি সুপ্রিয়া সুলে জানিয়েছেন, সব রাজ্যে যদি একযোগে ৫০ শতাংশ আসন বৃদ্ধি করা হয়, তবেই তারা এই বিলকে সমর্থন করার বিষয়টি বিবেচনা করবে। এই ঘোষণার পরেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, বিজেপি-র সঙ্গে এনসিপি-র এই সমঝোতা বিরোধী জোটে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত।
সংসদীয় রাজনীতির সমীকরণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ধুঁকছে। এর আগে ডিএমকে এবং আম আদমি পার্টির মতো শক্তিশালী শরিকরা যেভাবে বিরোধী জোট থেকে দূরত্ব তৈরি করেছে, তাতে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন এই ‘ইন্ডিয়া’ জোট ক্রমশই ফিকে হয়ে আসছে। বর্ষীয়ান নেতা শরদ পাওয়ার যদি সত্যিই কংগ্রেসের হাত ছেড়ে এনডিএ-র দিকে ঝুঁকে পড়েন, তবে বিরোধী শিবিরে কংগ্রেস কার্যত একা হয়ে পড়বে। যদিও সুপ্রিয়া সুলে জানিয়েছেন যে, ইন্ডিয়া জোটের মঞ্চে আলোচনার মাধ্যমেই তারা পরবর্তী পদক্ষেপ চূড়ান্ত করবেন, তবুও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে যে, বাদল অধিবেশনই হতে পারে বিরোধী জোটের ঐক্যের আসল অ্যাসিড টেস্ট।
একদিকে কেন্দ্রীয় বিল পাস করানোর জন্য রাজনাথ সিংয়ের বৈঠক, অন্যদিকে আসন পুনর্বিন্যাস ইস্যুতে এনসিপি-র নমনীয় মনোভাব— সব মিলিয়ে বাদল অধিবেশন শুরুর আগে থেকেই রাজধানীর রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। শাসক দল কি পারবে তাদের অভীষ্ট লক্ষ্য পূরণ করতে? নাকি বিরোধীদের এই ভাঙ্গনের ফায়দা নিয়ে এনডিএ আরও শক্তিশালী হবে? ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া এই অধিবেশনই দেবে সেই প্রশ্নের উত্তর।