দিল্লি ভ্রমণের পরিকল্পনা আছে? লালকেল্লা যাওয়ার আগে জেনে নিন এই জরুরি তথ্য!

দিল্লি ভ্রমণে বেরোনোর আগে যদি আপনার তালিকায় লালকেল্লা দেখার পরিকল্পনা থাকে, তবে তা আপাতত স্থগিত রাখতে হতে পারে। গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহ মিটে যাওয়ায় রাজধানীতে এখন পর্যটকদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। অনেকেই দিল্লির ঐতিহাসিক স্থাপত্যগুলি ঘুরে দেখতে আগ্রহী। কিন্তু আপনি যদি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দিল্লি যাওয়ার টিকিট কেটে থাকেন, তবে এই খবরটি আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সম্প্রতি আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (এএসআই – ASI) এক সরকারি নির্দেশিকায় জানিয়েছে যে, ঐতিহাসিক লালকেল্লা চত্বর সাধারণ পর্যটকদের জন্য এক মাসের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ১৫ জুলাই ২০২৬ থেকে ১৫ অগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত—অর্থাৎ স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের পুরো সময়কাল জুড়ে লালকেল্লা চত্বরে সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। গত ৯ জুলাই জারি করা এই আদেশে বলা হয়েছে, ‘প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভ এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান ও নিদর্শন বিধি, ১৯৫৯’-এর ৫ নম্বর বিধির অধীনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এএসআই-এর এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক জানিয়েছেন, এটি কোনো নতুন বিষয় নয়। প্রতি বছরই ১৫ অগস্ট স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তার খাতিরে এ ধরনের নির্দেশিকা জারি করা হয়ে থাকে। ইউনেসকো ঘোষিত এই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানটিতে ১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট থেকেই দেশের স্বাধীনতার মূল অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়ে আসছে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের শৃঙ্খল ভেঙে ভারত যে দিন স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল, সেই দিন থেকেই লালকেল্লার সঙ্গে স্বাধীনতা দিবসের এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

উল্লেখ্য, ১৫ অগস্ট স্বাধীনতা দিবসের দিন লালকেল্লা চত্বরে কঠোর নিরাপত্তা বলয় থাকে। ওই দিন শুধুমাত্র সরকারি পাসধারী আমন্ত্রিত ব্যক্তিবর্গই সেখানে প্রবেশের অনুমতি পান। জনসাধারণের জন্য এই চত্বর বছরের অন্যান্য দিন খোলা থাকলেও, অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির জন্য এক মাস আগেই তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। নিরাপত্তার দিকটি বিবেচনা করেই এএসআই এই সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।

তাই আপনি যদি লালকেল্লা দেখার পরিকল্পনা করে থাকেন, তবে এই এক মাস সেই ইচ্ছা পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। পর্যটকদের সুবিধার্থে ও বিভ্রান্তি এড়াতে কর্তৃপক্ষের তরফে বিষয়টি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এএসআই-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, আগামী ১৫ অগস্ট স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরেই ফের পর্যটকদের জন্য লালকেল্লার দরজা খুলে দেওয়া হবে। সুতরাং, দিল্লি ভ্রমণের পরিকল্পনা করার সময় এই বিষয়টির দিকে অবশ্যই নজর রাখুন। ভ্রমণের তারিখ নির্বাচন করার সময় এই এক মাসের বিধিনিষেধ মাথায় রেখে এগোলেই আপনার ভ্রমণ আনন্দদায়ক হবে।