‘পিসি-ভাইপোর দুর্দিন’! মদন মিত্রের দলবদল জল্পনায় রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড়, সুকান্তর নিশানায় তৃণমূল

২১ জুলাইয়ের শহীদ দিবস পালনকে কেন্দ্র করে যখন তৃণমূল কংগ্রেস চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই দলবদলের গুঞ্জন ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দলের হেভিওয়েট নেতা এবং কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের তৃণমূল ছাড়ার জল্পনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে এখন উত্তাপ চরমে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে আক্রমণ শানিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন ধরেই মদন মিত্রের বিভিন্ন ফেসবুক লাইভ এবং মন্তব্যের পর থেকে। দলের অন্দরের ক্ষোভ এবং নেতৃত্বের প্রতি কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখার বার্তায় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, মদন মিত্র কি তৃণমূলের সাথে বীতশ্রদ্ধ? যদিও মদন মিত্র বরাবরই নিজের স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বিতর্কিত মন্তব্য করে থাকেন, তবে এবারের প্রেক্ষাপট খানিকটা ভিন্ন। ২১ জুলাইয়ের মহাসমাবেশের ঠিক প্রাক্কালে তাঁর দলবদলের এই সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূল শিবিরে অস্বস্তি বাড়িয়েছে।
এনিয়ে মুখ খুলতে ছাড়েননি বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার। তিনি সরাসরি ‘পিসি-ভাইপো’ অর্থাৎ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে কটাক্ষ করেন। সুকান্ত মজুমদার বলেন, “তৃণমূলের ভেতরে এখন বড় ধরনের ভাঙন চলছে। পিসি-ভাইপোর দুর্দিন ঘনিয়ে এসেছে। দলের নীতিহীন রাজনীতির জন্য পুরনো এবং অভিজ্ঞ নেতারা আজ দমবন্ধ হয়ে তৃণমূল ছাড়ার কথা ভাবছেন। মদন মিত্রের মতো একজন নেতা যখন নেতৃত্বের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন, তখন বুঝতে হবে দলের অন্দরে ফাটল কতটা গভীর।” সুকান্ত আরও দাবি করেন যে, তৃণমূলের অনেক নেতাই এখন বিজেপির সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন এবং ২১ জুলাইয়ের আগেই হয়তো শাসকদলের অন্দরে বড় কোনো রদবদল বা ভাঙন দেখা দিতে পারে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের অন্দরের এই সংঘাত নতুন কিছু নয়। তবে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দলীয় শৃঙ্খলার নামে যে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে, তা অনেক নেতাই ভালোভাবে নিচ্ছেন না। মদন মিত্রের মতো জনপ্রিয় এবং স্পষ্টভাষী নেতা বারবার দলের অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছেন। তিনি যদি সত্যি দলত্যাগ করেন, তবে তা তৃণমূলের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হতে পারে। অন্যদিকে, বিজেপির পক্ষ থেকে এই জল্পনাকে হাওয়া দিয়ে শাসকদলের ভিত আরও নড়বড়ে করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই জল্পনাগুলোকে ‘কাল্পনিক’ এবং ‘বিজেপির ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দলের তরফ থেকে বারবার বলা হচ্ছে যে, ২১ জুলাইয়ের জনসভা সর্বকালের রেকর্ড ভাঙবে এবং দলের মধ্যে কোনো ফাটল নেই। কিন্তু সুকান্ত মজুমদারের এহেন আক্রমণ এবং মদন মিত্রের নীরবতা রাজনীতির অন্দরমহলে এক ধোঁয়াশা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, ২১ জুলাইয়ের আগেই কি সত্যিই কোনো বড় পরিবর্তন ঘটে, নাকি সবটাই শুধুই রাজনৈতিক চাপানউতোর? আপাতত উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতিতে সব নজর এখন মদন মিত্রের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই।