বাজারে ‘ডাবল-ইঞ্জিন’ ঝড়ে বড় উছাল! শেয়ার বাজারে কি তাহলে ২৬,৫০০ পয়েন্টের হাতছানি?

শেয়ার বাজারে আবারও বড়সড় ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বাজারের বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের উত্থান হতে চলেছে অত্যন্ত শক্তিশালী, যার পেছনে কাজ করছে এক ‘ডাবল-ইঞ্জিন’ সমর্থন। একদিকে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) দীর্ঘ চার মাস পর ভারতীয় বাজারে ফের সক্রিয় হয়েছেন, অন্যদিকে দেশীয় মিউচুয়াল ফান্ডগুলো তাদের নগদ রিজার্ভ রেকর্ড পরিমাণে কমিয়ে দলে দলে শেয়ার কিনছে। এই দুই তরফের সম্মিলিত তারল্য প্রবাহ বাজারের আগামী দিনের উত্থানের পথ প্রশস্ত করছে।

বিদেশি বিনিয়োগের নতুন জোয়ার: গত চার মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজার থেকে প্রায় ২.৬০ লক্ষ কোটি টাকা তুলে নিয়েছিলেন। তবে জুলাই মাসের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। এখন পর্যন্ত তারা ১৫,৫৫৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন, যা বাজারের দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক মনোভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গ্লোবাল ব্রোকারেজ সংস্থা গোল্ডম্যান স্যাকস-এর মতে, ভারতের শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, মুদ্রা পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা এবং পণ্যের নিম্নমুখী দাম বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন করে আকর্ষণ তৈরি করেছে।

রেকর্ড ভাঙা বিনিয়োগে মিউচুয়াল ফান্ড: দেশীয় মিউচুয়াল ফান্ডগুলোও পিছিয়ে নেই। জুন মাসে ইক্যুইটি মিউচুয়াল ফান্ডগুলো তাদের নগদ হোল্ডিং প্রায় ৪,৫৬৪ কোটি টাকা কমিয়ে ফেলেছে। মিউচুয়াল ফান্ড শিল্পের ক্যাশ রেশিও এখন ৪%-এ নেমে এসেছে, যা গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। পরাগ পারিখ ফ্লেক্সি ক্যাপ, এসবিআই এবং মতিলাল ওসওয়ালের মতো বড় ফান্ড হাউসগুলো এখন নগদ টাকা ধরে না রেখে বাজারে সক্রিয় বিনিয়োগ করছে।

বড় বিনিয়োগকারীদের নজরে কোন সেক্টর? এই বিপুল পরিমাণ অর্থ মূলত লার্জ-ক্যাপ স্টকের দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। অ্যাক্সিস এবং ক্যানারা রোবেকোর মতো বড় অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট হাউসগুলোর মতে, ব্যাংকিং, কনজিউমার ডিসক্রেশনারি, ক্যাপিটাল গুডস এবং ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরে বর্তমানে বড় সুযোগ রয়েছে। যদিও মিড-ক্যাপ ও স্মল-ক্যাপ স্টকের উচ্চমূল্য নিয়ে সতর্ক রয়েছে কোয়ান্ট ও নিপ্পন ইন্ডিয়ার মতো ফান্ডগুলো, তবুও লার্জ-ক্যাপে বিনিয়োগের এই হিড়িক বাজারকে স্থিতিশীলতা দিচ্ছে।

নিফটির লক্ষ্য ২৬,৫০০: গোল্ডম্যান স্যাকস পূর্বাভাস দিয়েছে যে, আগামী ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে নিফটি ২৬,৫০০ পয়েন্ট স্পর্শ করতে পারে। এটি বর্তমান স্তরের চেয়ে প্রায় ১০% বেশি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিনিয়োগকারীরা এখন গ্রোথ স্টকের বদলে ভ্যালু স্টকের দিকে ঝুঁকছেন। তবে এই লক্ষ্য পূরণ নির্ভর করবে কর্পোরেট সংস্থাগুলোর পরবর্তী ত্রৈমাসিক ফলাফল এবং বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর। সব মিলিয়ে, ভারতীয় শেয়ার বাজার এখন এক অত্যন্ত সম্ভাবনাময় মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে।