নেপোটিজমের সুবিধা নিয়েও ফ্লপ! রুপোলি পর্দার ‘বিস্মৃত’ নায়কদের করুণ পরিণতি

বলিউডে স্টারকিডদের নিয়ে বিতর্ক আজকের নয়। বহু বছর ধরেই অভিযোগ, তারকা পরিবারের সন্তানদের জন্য ইন্ডাস্ট্রির দরজা অনেকটাই খোলা থাকে। বড় প্রযোজকের ছবি, বিপুল প্রচার, আলো ঝলমলে লঞ্চ—সবকিছুই যেন হাতের মুঠোয়। কিন্তু সেই শুরুটা যতই জাঁকজমকপূর্ণ হোক, শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার লড়াইটা সবার জন্যই সমান কঠিন। কারণ দর্শক শেষ পর্যন্ত শুধু একটা বিষয়ই বিচার করেন—অভিনয়। গত দুই দশকে এমন অনেক স্টারকিড এসেছেন, যাঁদের নিয়ে একসময় ভবিষ্যতের সুপারস্টার হওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল। কেউ এসেছিলেন কোটি টাকার প্রচার নিয়ে, কেউ বা কিংবদন্তি বাবা-মায়ের উত্তরসূরি হিসেবে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাঁদের অনেকেই হারিয়ে গিয়েছেন বড় পর্দা থেকে। কেউ এখন ব্যবসার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন, কেউ প্রযোজনার কাজে ব্যস্ত।

এই তালিকার প্রথমেই রয়েছেন হরমন বাওয়েজা। ২০০৮ সালে প্রযোজক হ্যারি বাওয়েজা ছেলেকে লঞ্চ করেছিলেন ‘লাভ স্টোরি ২০৫০’ ছবির মাধ্যমে। হরমনের চেহারা, নাচ দেখে অনেকেই তাঁকে হৃতিক রোশনের উত্তরসূরি মনে করেছিলেন। কিন্তু বক্স অফিসে ভরাডুবির পর হরমনের ক্যারিয়ার মুখ থুবড়ে পড়ে। টানা ব্যর্থতার পর বাওয়েজা স্টুডিওসের দায়িত্ব নেন তিনি। তবে ২০২৩ সালে হানসাল মেহতার নেটফ্লিক্স সিরিজ ‘স্কুপ’-এ অভিনয় করে তিনি নতুনভাবে প্রশংসিত হন।

অন্যদিকে, মিঠুন চক্রবর্তীর ছেলে মহাক্ষয় চক্রবর্তী ওরফে মিমোর যাত্রা শুরু হয়েছিল ‘জিমি’ ছবির মাধ্যমে। প্রত্যাশা ছিল আকাশছোঁয়া, কিন্তু ছবিটি ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের আইনি বিতর্ক তাঁর ক্যারিয়ারে বড় ধাক্কা হয়ে আসে। বিযয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা এবং জোরপূর্বক গর্ভপাতের মতো গুরুতর অভিযোগ তাঁর ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

তারকা পরিবারের মেয়ে হয়েও একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে এশা দেওলকে। ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনীর কন্যা হয়েও প্রথম ছবির পর ‘ধুম’-এর মতো কিছু সফল কাজ করলেও ২০১১ সালের পর ধীরে ধীরে অভিনয় থেকে দূরে সরে যান। পরে ওটিটির মাধ্যমে ফেরার চেষ্টা করলেও ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন তাঁকে শিরোনামে রেখেছে।

আদিত্য পাঞ্চোলির ছেলে সূরজ পাঞ্চোলির বলিউড সফর শুরু থেকেই ছিল বিতর্কে ঘেরা। সলমন খানের হাত ধরে ‘হিরো’ ছবির মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করলেও, অভিনেত্রী জিয়া খানের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে তাঁর ক্যারিয়ার প্রায় ধ্বংসের মুখে পড়ে। যদিও ২০২৩ সালে আদালত তাঁকে খালাস দিয়েছে, কিন্তু সেই দীর্ঘ বিতর্ক তাঁর ক্যারিয়ারের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।

তালিকায় রয়েছেন টিপস ইন্ডাস্ট্রিজের কুমার তৌরানির ছেলে গিরীশ কুমারও। ‘রামাইয়া বাস্তাভাইয়া’ দিয়ে বলিউডে পা রাখা গিরীশ বুঝে গিয়েছিলেন রণবীর সিং বা রণবীর কাপুরদের ভিড়ে তাঁর জায়গা নেই। তাই অভিনয় ছেড়ে বর্তমানে তিনি পারিবারিক ব্যবসার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন এবং সফল ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

এই পাঁচটি গল্প আলাদা হলেও, শেষ পর্যন্ত তারা একই জায়গায় এসে মিলে যায়। বড় পরিবারের পরিচয় বা শক্তিশালী লঞ্চ প্রথম সুযোগ দিতে পারে, কিন্তু সেই সুযোগকে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বদলে দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র প্রতিভা, পরিশ্রম ও সঠিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। বলিউডের ইতিহাস বারবার মনে করিয়ে দেয়, নেপোটিজম দরজা খুলে দিলেও, সেই দরজা দিয়ে কতদূর হাঁটা যাবে, তার সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত দর্শকরাই নেন।