রক্ষাকবচ কি খোয়া যেত? আদালতের কড়া নির্দেশের পর অবশেষে ভয়েস স্যাম্পল দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

অবশেষে আইনি চাপে নতিস্বীকার করে নিজের কণ্ঠস্বরের নমুনা (Voice Sample) দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘ডিজে হুঁশিয়ারি’ সংক্রান্ত একটি বিতর্কিত মামলায় দীর্ঘদিন ধরেই তদন্তের মুখোমুখি হওয়ার নির্দেশ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। গত ১০ জুলাই এই মামলাতেই কলকাতা হাইকোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছিল অভিষেককে। বিচারপতির স্পষ্ট হুঁশিয়ারি ছিল, তদন্তে সহযোগিতা না করলে তাঁর রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করা হতে পারে। সেই কড়া নির্দেশের প্রেক্ষিতেই বুধবার সল্টলেকের বিধাননগর আদালতে গিয়ে তিনি নিজের কণ্ঠস্বরের নমুনা প্রদান করলেন।

বুধবার সকাল ১১টা নাগাদ দক্ষিণ কলকাতার কালীঘাটের বাসভবন থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয় রওনা দেয়। কালীঘাট হয়ে মা উড়ালপুল এবং ইএম বাইপাস পেরিয়ে বেলা ১১টা ৪৯ মিনিট নাগাদ বিধাননগর আদালতের চত্বরে পৌঁছায় তাঁর চার গাড়ির কনভয়। এদিন সকাল থেকেই অভিষেকের কালীঘাটের বাড়িতে বিশেষ তৎপরতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। আদালতের নির্ধারিত সময়সূচি মেনে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সকাল থেকেই তাঁর আইনজীবীদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও প্রস্তুতির কাজ চলছিল।

উল্লেখ্য, এই মামলার সূত্রপাত হয়েছিল এক জনসভায় দেওয়া অভিষেকের একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। সেখানে তিনি ডিজে বাজানো এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করেছিলেন, যা নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। তদন্তকারী সংস্থা এই মন্তব্যটি যাচাই করার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনা চেয়েছিল। তবে শুরু থেকেই আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু গত সপ্তাহের শুনানিতে বিচারপতি যখন সরাসরি ভয়েস স্যাম্পল দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং রক্ষাকবচ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন, তখনই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে।

আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, তদন্তে অসহযোগিতা করলে অভিযুক্তের বিশেষ রক্ষাকবচ বহাল রাখা সম্ভব নয়। আদালতের এই কঠোর অবস্থানই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে শেষ পর্যন্ত আদালতে হাজির হতে বাধ্য করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এদিন আদালতে হাজির হয়ে সমস্ত আইনি নিয়ম মেনে তিনি কণ্ঠস্বরের নমুনা প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

এই ঘটনার ফলে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে বিরোধীরা একে আদালতের জয় হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে তৃণমূলের অন্দরেও এই ঘটনা নিয়ে উদ্বেগের ছায়া। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আইনি পদক্ষেপ পরবর্তীকালে তাঁর আইনি সুরক্ষা বা রক্ষাকবচ বজায় রাখতে কতটা সাহায্য করবে, তা এখন দেখার বিষয়। তবে আপাতদৃষ্টিতে, আদালতের কড়া নির্দেশই এদিন দীর্ঘ টানাপোড়েনের সমাপ্তি ঘটালো। এই প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ হিসেবে তদন্তকারী সংস্থা কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষার জন্য ফরেনসিক ল্যাবে পাঠাবে বলে জানা গেছে।