ভারতের রেলপথে ইতিহাস! ১৭ জুলাই মোদীর হাত ধরে চালু হতে চলেছে প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেন

ভারতের পরিবহন ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা হতে চলেছে। আগামী ১৭ জুলাই, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জিন্দ এবং সোনিপতের মধ্যে ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন চালিত ট্রেনটির আনুষ্ঠানিক যাত্রার সূচনা করবেন। এটি কেবল একটি নতুন ট্রেন নয়, বরং পরিবেশবান্ধব এবং দূষণহীন রেল পরিষেবার দিকে ভারতের এক অসামান্য মাইলফলক। সম্পূর্ণ ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগের আওতায় এই ট্রেনের ডিজাইন থেকে শুরু করে ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অ্যাসেম্বলি—সবই ভারতেই সম্পন্ন হয়েছে। এই সাফল্যের মাধ্যমে ভারত বিশ্বের সেই স্বল্পসংখ্যক উন্নত দেশের তালিকায় যুক্ত হলো, যারা হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তিতে ট্রেন পরিচালনা করছে।

এই অত্যাধুনিক ট্রেনটি সম্পূর্ণরূপে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল প্রযুক্তি দ্বারা চালিত। এই প্রযুক্তির মূল বৈশিষ্ট্য হলো হাইড্রোজেনকে সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তরিত করা, যা ট্রেনটিকে সচল রাখতে শক্তি জোগায়। এই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এর উপজাত বা বাই-প্রোডাক্ট হিসেবে শুধুমাত্র জলীয় বাষ্প নির্গত হয়, যার ফলে কার্বন নিঃসরণ বা দূষণের মাত্রা একেবারে শূন্য। প্রথাগত ডিজেল ট্রেনের মতো এটি থেকে কোনো ক্ষতিকারক ধোঁয়া বের হয় না এবং শব্দদূষণও অনেক কম হয়। এছাড়া, এই ট্রেন পরিচালনার জন্য বৈদ্যুতিক তারের কোনো অবকাঠামো বা ওভারহেড লাইনের প্রয়োজন নেই, কারণ ট্রেনটি নিজেই নিজের বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম। গ্রিন হাইড্রোজেনের ব্যবহার জীবাশ্ম জ্বালানি বা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ভারতের পরিবেশগত লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে।

ভারতের এই নতুন হাইড্রোজেন ট্রেনটি প্রযুক্তির নিরিখে বিশ্বমানের। এতে মোট ১০টি কোচ রয়েছে এবং এটি বর্তমানে বিশ্বের দীর্ঘতম হাইড্রোজেন চালিত যাত্রীবাহী ট্রেনগুলির মধ্যে অন্যতম। ৩,২০০ হর্সপাওয়ারের শক্তিশালী প্রপালশন সিস্টেম এটিকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী হাইড্রোজেন ট্রেনসেট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

এই প্রকল্পের পাশাপাশি, ১৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হরিয়ানায় ১২,৪৭০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিভিন্ন জাতীয় সড়ক প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন। একই সফরে তিনি চণ্ডীগড় ও পাঞ্জাবেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সূচনা করবেন। ভারতের এই বিশাল পরিকাঠামো এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন দেশবাসীকে যেমন গর্বিত করেছে, তেমনই রেল পরিষেবার আধুনিকীকরণে এক নবদিগন্ত উন্মোচন করেছে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই উদ্যোগ পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যতের পথে ভারতকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।