মৃত্যুর মুখে সোনাম ওয়াংচুক! NEET কেলেঙ্কারিতে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে ১৯ দিন ধরে আমরণ অনশন

NEET পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম ও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে উত্তাল গোটা দেশ। এই কেলেঙ্কারির দায় স্বীকার করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে টানা ১৯ দিন ধরে আমরণ অনশনে বসেছেন বিশিষ্ট পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুক। ৫৯ বছর বয়সী এই লড়াকু ব্যক্তিত্বের স্বাস্থ্যের অবস্থা বৃহস্পতিবার চরম উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। শারীরিক এই প্রতিকূলতা এবং মৃত্যুর ঝুঁকি উপেক্ষা করেও তিনি নিজের অবস্থানে অনড়। বরং আন্দোলনকে আরও তীব্র করতে অনশন মঞ্চ থেকেই তিনি ২০ জুলাই ‘চলো সংসদ’ অভিযানের ডাক দিয়েছেন।
আন্দোলনকারী সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র মেডিকেল বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সোনাম ওয়াংচুকের ওজন ৪০০ গ্রাম কমে এখন ৫৭.১৫ কেজিতে দাঁড়িয়েছে। অনশন শুরুর পর থেকে তিনি মোট ৯ কেজিরও বেশি ওজন হারিয়েছেন। তাঁর রক্তচাপ ১০৫/৬১ mmHg এবং রক্তে শর্করার মাত্রা ৮০ mg/dL-এ নেমে এসেছে। চিকিৎসকদের মতে, তিনি মানসিকভাবে সচেতন থাকলেও শরীর মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে এবং তাঁকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি।
সোনাম ওয়াংচুকের এই অদম্য লড়াই দেশের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। শশী থারুর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, উদ্ধব ঠাকরে এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের মতো তাবড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা তাঁকে অনশন ভাঙার আর্জি জানিয়েছেন। অভিনেত্রী জিনাত আমন সরকারের কাছে আলোচনার পথ প্রশস্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে দিল্লির হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে, যেখানে ওয়াংচুকের জীবন বাঁচাতে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের আবেদন জানানো হয়েছে।
সরকারের নীরবতায় ক্ষুব্ধ CJP প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক প্রশ্ন তুলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কেন এই বিষয়ে কোনো সংলাপ করছেন না? কেন শিক্ষামন্ত্রীকে জবাবদিহিতার কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হচ্ছে না?” বুধবার এক ভিডিও বার্তায় সোনাম ওয়াংচুক সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, “আমাকে অনশন ভাঙার কথা না বলে, আপনারা ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযানে যোগ দিন।”
সোনাম ওয়াংচুকের এই ত্যাগের লড়াইয়ে সংহতি জানিয়েছেন নাসিরুদ্দিন শাহ, রত্না পাঠক শাহ, অরুন্ধতী রায় এবং জয়তী ঘোষের মতো দেশের প্রায় ১৮০০ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। তবে তাঁরাও ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত। উল্লেখ্য, অনশন মঞ্চে থাকা AISA নেতা নেহা, মণীশ ও আমীনের অবস্থাও অত্যন্ত সংকটজনক। একাধিক ছাত্রনেতা ইতিমধ্যে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযানকে ঘিরে আন্দোলনের পারদ এখন তুঙ্গে। CJP-র সাফ দাবি, NEET পরীক্ষার স্বচ্ছতা ফেরাতে হবে এবং শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই কোনোভাবেই থামবে না।