রণক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্য! মার্কিন হামলায় কাঁপছে ইরান, হরমুজ প্রণালী বন্ধের চরম হুঁশিয়ারি তেহরানের

মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে এক চরম যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের এই রেষারেষি এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন বাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান হামলা এবং ইরানি বন্দরগুলোতে নতুন করে অবরোধ আরোপের ফলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কেসম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, চাবাহার, খন্দাব এবং খোররামাবাদসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। মার্কিন হামলায় শহিদ বাঘাই হাসপাতালের ক্যান্সার বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিশুসহ অসুস্থ রোগীদের অন্যত্র সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত তেহরানের সরকারি হিসাবে অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ইরানের পাল্টা জবাবও ছিল অত্যন্ত কঠোর। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা আন্দিমেশক শহরের আকাশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আধুনিক ‘এমকিউ-৯’ চালকবিহীন ড্রোন নিখুঁতভাবে শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে। এটি ইরানের নতুন দেশীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি সফল পরীক্ষা বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া, আইআরজিসি বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং জর্ডান বাহিনী ইরান থেকে ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। উত্তেজনার পারদ যখন তুঙ্গে, তখন ইরাকের ইরবিলেও মার্কিন কনস্যুলেটের কাছে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন বিদেশ দপ্তর সৌদি আরবের কাছে ১.৯৬ বিলিয়ন ডলার এবং কুয়েতের কাছে ৪৮৪ মিলিয়ন ডলারের বিশাল অস্ত্র প্যাকেজ বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। একদিকে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, অন্যদিকে আলোচনার প্রস্তাব—এই দোলাচলেই আটকা পড়েছে বর্তমান পরিস্থিতি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান শান্তি চুক্তির জন্য প্রস্তুত। তবে তিনি একইসঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান আলোচনার টেবিলে না ফিরলে আগামী সপ্তাহে তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুগুলোতে ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।

এদিকে, বিশ্ব অর্থনীতিতে উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের তেল ও গ্যাস সরবরাহের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি ইরান পুনরায় বন্ধ ঘোষণা করেছে। তেহরানের সাফ কথা, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগ্রাসন বন্ধ না করা পর্যন্ত” এই প্রণালী আর উন্মুক্ত করা হবে না। যদিও উভয় পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনা এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি, কিন্তু ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কোনো সমঝোতা থেকে সুবিধা না পেলে ইরান তা মেনে চলবে না। হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল এখন ন্যূনতম পর্যায়ে নেমে এসেছে, যার ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। সামরিক উত্তেজনার এই বৃত্তে বিশ্ব শান্তি এখন বড় ধরণের ঝুঁকির মুখে।