অষ্টম বেতন কমিশনের হাত ধরে কি পকেটে লক্ষ্মীলাভ? কেন্দ্রীয় কর্মীদের বাড়ি ভাড়া ভাতা বাড়ছে আকাশছোঁয়া!

অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে দেশজুড়ে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে। শুধু মূল বেতন বৃদ্ধি নয়, এই কমিশনের সুপারিশে বাড়ি ভাড়া ভাতা বা এইচআরএ (HRA) নিয়ে যে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে চলেছে, তা কর্মচারীদের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এইচআরএ যেহেতু সরাসরি মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত, তাই মূল বেতন বাড়লে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বাড়বে ভাতার অঙ্ক।

বর্তমানে অষ্টম বেতন কমিশনের জন্য ২.০, ২.২৮ এবং ২.৫৭-এর মতো একাধিক ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়ে আলোচনা চলছে। এই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর পরিবর্তনের ওপর ভিত্তি করেই কর্মচারীদের বেতনের কাঠামো পুনর্নির্ধারিত হবে। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমানে একজন লেভেল-১ কর্মচারীর মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা। যদি ২.০ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কার্যকর হয়, তবে তার মূল বেতন বেড়ে হবে ৩৬,০০০ টাকা। এর ফলে তার এইচআরএ ৫,৪০০ টাকা থেকে বেড়ে সোজা ১০,৮০০ টাকায় পৌঁছে যাবে। আর যদি ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কার্যকর করা হয়, তবে মূল বেতন বেড়ে হবে ৪৬,২৬০ টাকা এবং এইচআরএ বেড়ে দাঁড়াবে ১৩,৮৮০ টাকায়। উচ্চতর লেভেলের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে লেভেল-১০ পদমর্যাদার কর্মীদের জন্য এক্স-ক্যাটাগরি শহরে এইচআরএ ৪৩,২৫০ টাকা পর্যন্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে কেন্দ্রীয় কর্মচারীরা তাদের পোস্টিংয়ের স্থানের ওপর ভিত্তি করে তিনটি হারে এইচআরএ পান: এক্স-ক্যাটাগরির শহরগুলির জন্য মূল বেতনের ৩০%, ওয়াই-ক্যাটাগরির জন্য ২০% এবং জেড-ক্যাটাগরির জন্য ১০%। তবে অল ইন্ডিয়া এনপিএস এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন কর্মী সংগঠনের দাবি, মুম্বাই বা দিল্লি-এনসিআর-এর মতো মহানগরগুলিতে যেভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় ও বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে, বর্তমান হারের এইচআরএ সেখানে একেবারেই পর্যাপ্ত নয়।

এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই কর্মী সংগঠনগুলি জোরালো দাবি জানিয়েছে যে, এক্স-ক্যাটাগরির শহরগুলির জন্য এইচআরএ বাড়িয়ে মূল বেতনের ৩৬%, ওয়াই-ক্যাটাগরির জন্য ২৪% এবং জেড-ক্যাটাগরির জন্য ১২% করা হোক। এমনকি কোনো কোনো সংগঠন এক্স-ক্যাটাগরির শহরগুলিতে বাড়ি ভাড়া ভাতা ৪০% পর্যন্ত করার পক্ষে সওয়াল করেছে। সব মিলিয়ে, অষ্টম বেতন কমিশন শুধুমাত্র বেতনেই নয়, ভাতার ক্ষেত্রেও কেন্দ্রীয় কর্মীদের জন্য এক বড় পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে আসছে। এখন দেখার বিষয়, সরকার এই দাবিগুলি কতটা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে এবং চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তিতে কর্মীদের হাতে কতটা অর্থ পৌঁছায়।