পরকীয়া নিয়ে সতর্ক করতেই প্রাণ খোয়ালেন যুবক! চাঞ্চল্যকর খুনের মামলায় চুঁচুড়া আদালতে দোষীর ফাঁসি

স্ত্রীর অবৈধ সম্পর্কের কথা স্বামীকে জানিয়ে দেওয়াই কাল হলো। সেই আক্রোশে ধারালো অস্ত্রের কোপে প্রাণ হারাতে হলো এক যুবককে। ২০১৯ সালের সেই নৃশংস ঘটনার প্রায় সাত বছর পর চুঁচুড়া জেলা আদালতের প্রথম দায়রা বিচারক রিন্টু শূর অভিযুক্ত অজয় মণ্ডলকে ফাঁসির সাজা শোনালেন। এই রায়দানকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে চুঁচুড়ার আনন্দমঠ এলাকায়।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৯ সালের ১১ জুলাই রাত ১১টা নাগাদ। তদন্তকারী পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চুঁচুড়ার আনন্দমঠ এলাকার এক বিবাহিত মহিলার সঙ্গে অভিযুক্ত অজয় মণ্ডলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এই বিষয়টি জেনে ফেলেছিলেন ওই এলাকারই বাসিন্দা অতনু সরকার এবং সুরজিৎ মাল। সমাজ ও পরিবারের স্বার্থে বিষয়টি মহিলার স্বামীকে জানিয়ে দেন তাঁরা। নিজেদের কর্তব্য পালন করতে গিয়ে যে এমন ভয়াবহ পরিণতি হবে, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি তাঁরা।

স্বামীকে পরকীয়ার কথা জানিয়ে দেওয়ায় তীব্র আক্রোশ জন্মায় অজয়ের মনে। রাগের মাথায় ওই রাতেই সে ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় অতনু এবং সুরজিতের ওপর। দুই যুবককে এলোপাথাড়ি কোপ মারতে থাকে সে। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে তড়িঘড়ি কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। দীর্ঘ পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শেষপর্যন্ত হার মানেন অতনু সরকার। তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

এই ঘটনায় অতনুর দাদা রজত সরকার অভিযুক্ত অজয়ের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করেন। ঘটনার পরেই অবশ্য অজয় মণ্ডল আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্রসহ চুঁচুড়া থানায় এসে আত্মসমর্পণ করে। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। দীর্ঘ সাত বছর ধরে চুঁচুড়া আদালতে এই মামলাটি চলে। বিচার চলাকালীন অভিযুক্ত অজয় চারবার কলকাতা হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করেছিল, কিন্তু কোনোবারই সে রেহাই পায়নি।

মামলার শুনানির সময় সরকারি আইনজীবী দেবেন্দ্র তেওয়ারী এবং মুখ্য সরকারি আইনজীবী শংকর গঙ্গোপাধ্যায় তথ্য-প্রমাণ ও সওয়াল-জবাবের মাধ্যমে অভিযুক্তের অপরাধ আদালতের সামনে তুলে ধরেন। এই মামলায় মোট ১৯ জন সাক্ষী তাদের বয়ান রেকর্ড করেছেন। সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করে বুধবার চুঁচুড়া জেলা আদালতের বিচারক রিন্টু শূর অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিস্বরূপ ফাঁসির নির্দেশ দেন। আইনের এই কঠোর রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন অতনুর পরিবার ও এলাকাবাসী।