‘বিমারু’ তকমা ঝেড়ে ফেলে ভারতের সেরা তিনে! উত্তরপ্রদেশের রূপান্তরের নেপথ্যে কোন জাদুকরী ছোঁয়া?

একদা ‘বিমারু’ রাজ্যের তালিকায় নাম থাকা উত্তরপ্রদেশ আজ ভারতের অর্থনৈতিক মানচিত্রে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। বিগত কয়েক বছরে উত্তরপ্রদেশ অর্থনৈতিকভাবে যে গতি পেয়েছে, তা নজর কেড়েছে তাবড় অর্থনীতিবিদদেরও। রাজ্যের অর্থনৈতিক আকার ১৩.৩ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বেড়ে এখন প্রায় ৩৬ লক্ষ কোটিতে পৌঁছেছে, যা ভারতের প্রথম তিনটি অর্থনীতির অন্যতম একটি রাজ্য হিসেবে উত্তরপ্রদেশকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
অর্থনৈতিক পরিবর্তনের চাবিকাঠি উত্তরপ্রদেশের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে মূলত পরিকাঠামো উন্নয়নকেই মূল চাবিকাঠি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। উত্তরপ্রদেশ এখন এক্সপ্রেসওয়ের নেটওয়ার্কে ভরপুর। পূর্বাঞ্চল এক্সপ্রেসওয়ে, বুন্দেলখণ্ড এক্সপ্রেসওয়ে এবং গোরখপুর লিংক এক্সপ্রেসওয়ের মতো মেগা প্রকল্পগুলো কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করেনি, বরং এগুলোকে অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া নতুন নতুন বিমানবন্দরের সংযোজন—যেমন অযোধ্যা, জেবি নগর ও কুশিনগর—বিনিয়োগকারীদের কাছে উত্তরপ্রদেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
কর্মসংস্থান ও নারী ক্ষমতায়ন সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে ১ কোটি ১০ লক্ষেরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে ৯ লক্ষেরও বেশি সরকারি চাকরি। এছাড়া নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে উত্তরপ্রদেশ এক অনন্য নজির গড়েছে। রাজ্যের বর্তমানে সক্রিয় স্টার্টআপগুলোর ৫০ শতাংশেরও বেশি নারী পরিচালিত, যা নারী ক্ষমতায়নের এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
বদল আসছে সাধারণ মানুষের জীবনেও লখনউয়ের স্থানীয় উদ্যোক্তা রাহুল জানান, “আগে চাকরির জন্য দিল্লি বা মুম্বইয়ের দিকে মুখিয়ে থাকতে হতো। কিন্তু এখন নিজের রাজ্যেই সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এক্সপ্রেসওয়ে নেটওয়ার্কের কারণে ব্যবসার পরিধি আগের চেয়ে তিনগুণ বেড়েছে।” গ্রামীণ অর্থনীতিতেও এই পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। ফুড প্রসেসিং, হ্যান্ডলুম ও টেক্সটাইল সেক্টরের পুনরুজ্জীবনে গ্রামভিত্তিক ছোট শিল্পগুলো নতুন করে চাঙ্গা হয়ে উঠছে।
ভবিষ্যৎ পথচলা শিল্পপতিদের মতে, উত্তরপ্রদেশে এখন বিনিয়োগ করা আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও লাভজনক। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রশাসনিক সংস্কারের ফলে বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এক সময়ের দরিদ্র ও পরিকাঠামোয় পিছিয়ে থাকা রাজ্য আজ ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তিগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। এখন দেখার, এই গতি বজায় রেখে উত্তরপ্রদেশ আগামী দিনে ভারতের শীর্ষ অর্থনীতির শিরোপা নিজের দখলে আনতে পারে কি না।