লাদাখে ‘অফ-রোডিং’-এর মাশুল ১ লাখ ২০ হাজার! বাইকারদের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন জরিমানা প্রশাসনের

অ্যাডভেঞ্চারের নেশায় পাহাড়ের সংরক্ষিত এলাকায় গাড়ি বা বাইক নামানোর অভ্যাসে ইতি টানতে কড়া বার্তা দিল লাদাখ প্রশাসন। নির্দিষ্ট রাস্তা এড়িয়ে ‘অফ-রোডিং’ করার দায়ে গুরুগ্রামের একদল বাইকারকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। শুধু বাইকাররাই নয়, উত্তরপ্রদেশের এক পর্যটককে প্যানগং হ্রদের সংরক্ষিত এলাকায় গাড়ি নামানোর অপরাধে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হয়েছে।
ঘটনাটি কী? সম্প্রতি ১২ জনের একটি বাইক আরোহী দল গুরুগ্রামের এক ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে লাদাখে গিয়েছিল। তারা ‘চ্যাংথাং বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য’-র অন্দরে বেআইনিভাবে বাইক নিয়ে প্রবেশ করে। বন্যপ্রাণী আধিকারিকরা তাঁদের হাতেনাতে ধরে ফেলেন এবং পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের দায়ে মাথাপিছু ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেন। অন্যদিকে, প্যানগং হ্রদের সংরক্ষিত এলাকায় গাড়ি নিয়ে ঢুকে পড়ায় মিরাটের এক পর্যটকের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা। জরিমানার টাকা মেটানোর পরেই তাঁর বাজেয়াপ্ত গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়।
কেন এত কড়াকড়ি? লাদাখের শীতল মরুভূমির বাস্তুতন্ত্র ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল। আধিকারিকদের মতে, এখানকার নরম মাটি ও ধীরগতিতে বেড়ে ওঠা গাছপালার ওপর দিয়ে গাড়ির চাকা চলে গেলে সেই দাগ বছরের পর বছর থেকে যায়। এর ফলে ‘আল্পাইন তৃণভূমি’ ও জলাভূমির মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
এছাড়া চ্যাংথাং অভয়ারণ্য হলো বিপন্ন ‘ব্ল্যাক-নেকড ক্রেন’, তিব্বতি বুনো গাধা (কিয়াং) এবং তিব্বতি হরিণের মতো বিরল বন্যপ্রাণীর একমাত্র চারণভূমি। পর্যটকদের গাড়ির দাপটে এই প্রাণীদের স্বাভাবিক বাসস্থান ও খাদ্যসংস্থান নষ্ট হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে।
প্রশাসনের বার্তা লাদাখ প্রশাসন সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, পর্যটন মানেই যথেচ্ছাচার নয়। সংরক্ষিত এলাকায় বা হ্রদের তীরে নির্দিষ্ট রাস্তার বাইরে গাড়ি চালানো দণ্ডনীয় অপরাধ। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আইনের কড়া ধারায় মামলা দায়ের করে প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—সৌন্দর্য উপভোগ করুন, কিন্তু প্রকৃতিকে ধ্বংস করে নয়।
অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় পর্যটকদের জন্য প্রশাসনের অনুরোধ, লাদাখের সৌন্দর্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় রাস্তা মেনে চলুন। বেআইনি অফ-রোডিংয়ে শুধু আইনানুগ ব্যবস্থাপনাই নয়, পকেট থেকে বিপুল অঙ্কের টাকা খসার সম্ভাবনাও প্রবল।