আর বুকিংয়ের ঝক্কি নয়! সুইগি ইনস্টামার্টে এলপিজি সিলিন্ডার, মুহূর্তেই পৌঁছবে ঘরে

রান্নার গ্যাসের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা বা বুকিংয়ের ঝক্কি এবার অতীত হতে চলেছে। গ্রাহকদের দোরগোড়ায় পরিষেবা পৌঁছে দিতে দেশের প্রথম ‘অন-ডিমান্ড’ এলপিজি সিলিন্ডার ডেলিভারি পরিষেবা চালু করল সুইগির কুইক কমার্স প্ল্যাটফর্ম ‘ইনস্টামার্ট’ (Swiggy Instamart) এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (HPCL)। আপাতত বেঙ্গালুরুর সুব্রহ্মণ্যপুরা এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এই পরিষেবা শুরু হয়েছে।

কী কী সুবিধা পাবেন গ্রাহকরা? এই নতুন উদ্যোগের আওতায় গ্রাহকরা মূলত দুটি বিকল্প পাচ্ছেন:

  • এইচপি নাভ্যা (HP Navya): এটি একটি ১০ কেজির আধুনিক কম্পোজিট এলপিজি সিলিন্ডার। এটি সাধারণ স্টিলের সিলিন্ডারের চেয়ে ওজনে হালকা, মরচে-প্রতিরোধী এবং এর আধা-স্বচ্ছ কাঠামো থাকায় ভেতরে গ্যাসের পরিমাণ সহজেই বোঝা যায়।

  • ৫ কেজির মেটাল সিলিন্ডার: সাধারণ ব্যবহারের জন্য ছোট আকারের সিলিন্ডারও অর্ডার করা যাবে।

কারা এই পরিষেবা নিতে পারবেন? যারা প্রথমবারের জন্য এই পরিষেবা নেবেন, তাদের সিলিন্ডার নেওয়ার আগে পরিচয় যাচাইকরণ (KYC) ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। পরবর্তীতে, রিফিল অর্ডারের সময় পুরনো খালি সিলিন্ডারটি ডেলিভারি পার্টনারের কাছে জমা দিলেই নতুন ভর্তি সিলিন্ডার পাওয়া যাবে। ছাত্রছাত্রী, কর্মজীবী পেশাজীবী, ভাড়াটিয়া বা ছোট পরিবারের জন্য এই পরিষেবা বিশেষভাবে উপযোগী। মজার বিষয় হলো, এই সিলিন্ডারগুলো কেনার জন্য আলাদা করে গার্হস্থ্য এলপিজি সংযোগ থাকার প্রয়োজন নেই।

নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা ইনস্টামার্টের মাধ্যমে আসা প্রতিটি অর্ডার এইচপিসিএল-এর অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই পূরণ করা হবে। ডেলিভারির দায়িত্বে থাকবেন প্রশিক্ষিত কর্মীরা, যারা সমস্ত নিরাপত্তা বিধি মেনে সিলিন্ডার গ্রাহকের বাড়িতে পৌঁছে দেবেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এই পাইলট প্রজেক্টের সাফল্য দেখে ভবিষ্যতে অন্যান্য শহরেও এই পরিষেবা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ইনস্টামার্টের সিইও অমিতেশ ঝা জানিয়েছেন, মুদি পণ্যের বাইরে গৃহস্থালির জরুরি পণ্য হিসেবে এলপিজি-কে অন্তর্ভুক্ত করা তাদের পরিষেবার পরিসরকে আরও বিস্তৃত করল। অন্যদিকে, এইচপিসিএল-এর ডিরেক্টর (মার্কেটিং) অমিত গর্গ জানিয়েছেন, ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ‘নয়া ভারত’-এর গ্রাহকদের কাছে আরও সহজে পৌঁছাতে চায় কোম্পানিটি।

বর্তমানে ১৩১টিরও বেশি শহরে সক্রিয় ইনস্টামার্ট এবং এইচপিসিএল-এর এই যৌথ উদ্যোগ ডিজিটাল ইকোনমিতে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।