বন্দিদের সংশোধনে নয়া দিশা ছত্তিশগড়ে: রাজ্যের প্রথম ‘মুক্ত সংশোধনাগার’ চালু বেমেতারাতে

অপরাধীদের কঠোর শাস্তির বদলে তাদের সংশোধন ও পুনর্বাসনের লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল ছত্তিশগড় সরকার। রাজ্যের বেমেতারা জেলার পাথাররা গ্রামে চালু হলো ছত্তিশগড়ের প্রথম ‘মুক্ত সংশোধনাগার’ বা ‘ওপেন জেল’। প্রায় ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সংশোধনাগারে আপাতত ২০০ জন বন্দির থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মুক্ত সংশোধনাগারের বিশেষত্ব প্রথাগত কারাগারের মতো এখানে কোনো উঁচু পাঁচিল, কাঁটাতারের বেড়া বা সশস্ত্র প্রহরীর কড়াকড়ি নেই। কারা বিভাগের ডিআইজি এস এস টিগগা জানিয়েছেন, এই সংশোধনাগারটি বন্দিদের আত্মশৃঙ্খলা, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং ভালো আচরণের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বন্দিদের অপরাধের জগৎ থেকে বের করে এনে সমাজের মূল স্রোতে পুনরায় ফিরিয়ে আনা।

কারা পাবেন এখানে থাকার সুযোগ? এই বিশেষ সংশোধনাগারে জায়গা পেতে হলে বন্দিদের নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়:

  • কেবলমাত্র যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত যে সমস্ত বন্দি বদ্ধ কারাগারে থাকাকালীন দীর্ঘ সময় ধরে ভালো আচরণ ও শৃঙ্খলার প্রমাণ দিয়েছেন, তাঁদেরই এখানে স্থানান্তর করা হবে।

  • যারা ধারাবাহিক বা অভ্যাসগত অপরাধী নন, তাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

  • সাধারণত সাজা শেষের এক বা দুই বছর বাকি থাকাকালীন বন্দিদের এই পরিবেশে রাখা হয়, যাতে তারা কারাগারের চার দেয়াল থেকে বেরিয়ে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে অভ্যস্ত হতে পারেন।

প্রকল্পের পটভূমি উল্লেখ্য, ২০২১ সালে তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের আমলে এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পের জন্য পাথাররা এলাকায় ৩০ একর সরকারি জমি বরাদ্দ করা হয় এবং নির্মাণের জন্য ২২.২৮ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে।

বন্দিদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি এবং সাজা শেষ হওয়ার পর নতুন জীবিকা শুরুর জন্য তাদের স্বনির্ভর করে তোলাই এই আধুনিক সংশোধনমুখী ব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য। অপরাধমুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে ছত্তিশগড় সরকারের এই মানবিক উদ্যোগকে প্রশাসনিক ও আইনি মহলে ইতিবাচক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।