নয়ডার মামুরা গ্রামে পাঁচতলা ভবনে আগুন, ৫০ পরিবারের বাঁচার লড়াই, মুখ্যমন্ত্রী যোগীর কড়া নির্দেশ

নয়ডার ফেজ ৩ থানা এলাকার মামুরা গ্রামে এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার একটি পাঁচতলা ভবনে আচমকাই আগুন লেগে যাওয়ার ফলে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুন এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, বহুতল ভবনটিতে বসবাসকারী প্রায় ৫০টি পরিবার ভেতরে আটকা পড়ে যায়। এই ঘটনায় দুঃখজনকভাবে দুই ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভবনটির পার্কিং এলাকায় রাখা একটি ইলেকট্রিক বাইক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ইলেকট্রিক বাইকের ব্যাটারি থেকে সৃষ্ট স্ফুলিঙ্গ মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে পুরো বহুতলে। আগুনের লেলিহান শিখা এবং ধোঁয়ায় পুরো ভবনটি ঢেকে যায়। এই ঘটনার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, বিপদের মুহূর্তে দুটি ভবনের ছাদের মাঝখানে একটি অস্থায়ী সিঁড়ি লাগিয়ে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধার করার চেষ্টা চলছে।
দমকল বাহিনীর বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করে। দমকল কর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে আসেন। ঘটনার তীব্রতা এতটাই ছিল যে, পুলিশ ও দমকল বিভাগ দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পুরো বাড়িটির কাঠামো ভয়াবহ আগুনের তাপে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন। নয়ডার সেক্টর ৬৬-এর এই ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর নির্দেশ দিয়েছেন। উদ্ধার কার্যক্রমে যাতে কোনো প্রকার গাফিলতি না হয়, সে বিষয়ে তিনি প্রশাসনকে সতর্ক করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী আহতদের যথাযথ চিকিৎসা প্রদানের এবং ত্রাণ কার্যক্রমের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ প্রশাসন ইতিমধ্যেই ভবনটির মালিককে আটক করেছে। ভবনে অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থার কোনো যথাযথ প্রস্তুতি ছিল কি না এবং নিরাপত্তার নিয়মগুলো মানা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। এছাড়া ইলেকট্রিক বাইকটি কোথায় চার্জ দেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধক কোনো ব্যবস্থা ছিল কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই পুরো মামুরা এলাকা ও নয়ডা জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন যে, আবাসিক এলাকাগুলোতে যেভাবে ইলেকট্রিক যানবাহনের চার্জিং পয়েন্ট বাড়ছে, তাতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা জরুরি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে। প্রশাসনকে সব স্তরে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে।