সাইবার যুদ্ধের যুগে অভেদ্য দুর্গ ভারতীয় সেনা! ড্রোন-হ্যাকারের দিন শেষ, এল নতুন প্রযুক্তি

প্রতিরক্ষা গবেষণায় নতুন মাইলফলক স্পর্শ করল ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (DRDO)। কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে এক অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে ভারতের এই শীর্ষস্থানীয় গবেষণা সংস্থা। অত্যাধুনিক ‘কোয়ান্টাম কি ডিস্ট্রিবিউশন’ (QKD) প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ভারতীয় সেনার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে এখন বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত নেটওয়ার্কে পরিণত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। সম্প্রতি এই ব্যবস্থার সফল ফিল্ড ট্রায়াল শেষ করেছে ডিআরডিও। এই প্রযুক্তি সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে তৈরি, যা বর্তমানের সাইবার যুদ্ধের যুগে সেনার গোপনীয় বার্তা ও ডেটা সুরক্ষায় এক শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
ডিআরডিও-র গবেষক দল বেঙ্গালুরুভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘টাকবিট ল্যাবস’-এর (Taqbit Labs) সাথে হাত মিলিয়ে এই উন্নত সিস্টেমটি তৈরি করেছে। মূলত ফাইবার অপটিক ক্যাবল ব্যবহার করে অত্যন্ত সুরক্ষিত উপায়ে বার্তা আদান-প্রদান করাই এই প্রযুক্তির মূল কাজ। এটি এমন একটি আধুনিক পদ্ধতি, যার মাধ্যমে পাঠানো বার্তা কোনো অবস্থাতেই মাঝপথে ইন্টারসেপ্ট বা চুরি করা সম্ভব নয়। ফলে বিদেশি শত্রু কিংবা কোনো হ্যাকার গোষ্ঠী ভারতীয় সেনার অত্যন্ত গোপন যোগাযোগ ব্যবস্থায় আর কখনো আড়িপ পাততে পারবে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সাইবার জগতে তথ্য সুরক্ষা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই কোয়ান্টাম প্রযুক্তি সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। শুধু প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রেই নয়, এই প্রযুক্তি আগামী দিনে দেশের ব্যাংকিং, মেডিকেল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেক্টরের সংবেদনশীল ডেটা সুরক্ষিত রাখতেও ব্যবহার করা হবে। এর আগে আইআইটি দিল্লির সাথে যৌথভাবে ডিআরডিও ‘ফ্রি-স্পেস কোয়ান্টাম সিকিউর কমিউনিকেশন’-এর সফল পরীক্ষা চালিয়েছিল। এবার সেই প্রযুক্তির ফিল্ড ট্রায়ালে সাফল্য পাওয়ায় ভারত সাইবার সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে গেল।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ভারতীয় সেনার নিজস্ব নেটওয়ার্ক এখন সম্পূর্ণ ‘হ্যাক-প্রুফ’। যেহেতু কোয়ান্টাম প্রযুক্তি পদার্থবিজ্ঞানের মৌলিক নিয়ম মেনে কাজ করে, তাই এতে কোনো ডিজিটাল ‘ব্যাকডোর’ বা দুর্বলতা থাকার সম্ভাবনা নেই। ‘আত্মনির্ভর ভারত’ প্রকল্পের আওতায় এই প্রযুক্তি তৈরি করা হয়েছে, যা বিদেশের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে ভারতকে কৌশলগত দিক থেকে কয়েক ধাপ এগিয়ে দিল। আগামী দিনে এই সুরক্ষা ব্যবস্থা ভারতীয় সেনার প্রতিটি ইউনিটে মোতায়েন করা হবে, যা দেশের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী ভূমিকা পালন করবে।