ভারতের কৃষির নতুন মোড়, ব্রিটেন খুলল বাজার, লাভের মুখ দেখবেন চাষিরা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ভারত ও ব্রিটেনের মধ্যে ঐতিহাসিক ‘কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক অ্যান্ড ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ (CETA) কার্যকর হওয়ার ফলে ভারতীয় কৃষি খাতের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তির ফলে ব্রিটিশ বাজারে ভারতীয় কৃষিপণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
এই চুক্তির অধীনে ব্রিটেন ভারতীয় তাজা ফল এবং শাকসবজি আমদানির ক্ষেত্রে সব ধরনের শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এর ফলে মহারাষ্ট্রের উন্নত মানের আঙুর, পেঁয়াজ এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত সবজি এখন সরাসরি ব্রিটিশ বাজারে পৌঁছে যাবে। এছাড়া, বেকারি পণ্য যেমন ব্রেড, কেক, পেস্ট্রি, প্রিজার্ভড সবজি এবং বিভিন্ন ধরনের সস ও প্রাকৃতিক মধুর জন্য এক বিশাল ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য, ব্রিটেন প্রতি বছর প্রায় ৯০ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য আমদানি করে। এই বিশাল বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার ফলে ভিয়েতনাম বা অন্যান্য প্রতিযোগীদের তুলনায় ভারতীয় রপ্তানিকারকরা এখন সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন।
এই চুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা ভোগ করবে মহারাষ্ট্র, গুজরাট, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু ও পাঞ্জাবের কৃষি ক্লাস্টারগুলো। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ তৈরি হবে, বিশেষ করে কৃষক উৎপাদক সংগঠন (FPOs), ফুড প্রসেসিং ইউনিট এবং লজিস্টিক সেক্টরে হাজার হাজার নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
তবে দেশের ছোট ও প্রান্তিক কৃষকদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে ভারত সরকার অত্যন্ত সতর্কতার সাথে কিছু পণ্যকে এই চুক্তির আওতামুক্ত রেখেছে। দুগ্ধজাত পণ্য যেমন দুধ, পনির, মাখন ও ঘি, এছাড়া আপেল, আনারস, কমলা, ডালিম এবং টমেটো, রসুন, বাঁধাকপির মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজিকে এই তালিকার বাইরে রাখা হয়েছে। এছাড়া চাল, চিনি, মুরগির মাংস এবং ডিমের মতো সংবেদনশীল পণ্যগুলোতেও কোনো শুল্ক ছাড় দেওয়া হয়নি, যাতে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যের দামে অস্থিরতা তৈরি না হয়।
পরিশেষে বলা যায়, এই চুক্তি শুধুমাত্র রপ্তানি বৃদ্ধি করবে না, বরং বিশ্ববাজারে ভারতীয় কৃষির মান ও গ্রহণযোগ্যতাকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর ‘আত্মনির্ভর ভারত’ এবং কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্য পূরণে এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ এক শক্তিশালী মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।