তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়িয়ে বিস্ফোরক মদন মিত্র, দলীয় পদ থেকে ইস্তফায় রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত অনুগত সৈনিক হিসেবে পরিচিত কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্রের তৃণমূল ত্যাগের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে প্রবল চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের সমীকরণ উল্টে দিয়ে বুধবার দুপুরে শাসকদলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন এই হেভিওয়েট নেতা। তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগের সিদ্ধান্ত তৃণমূলের অন্দরে যেমন গভীর অস্বস্তি তৈরি করেছে, তেমনই বিরোধী শিবিরে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণের জল্পনা।
এদিন দুপুরের নাটকীয় মোড়টি ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত। সাদা পাঞ্জাবি এবং তাঁর স্বভাবসিদ্ধ কালো রোদচশমা পরে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কক্ষে প্রবেশ করেন মদন মিত্র। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, শাসকদলের অন্দরে দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ ও মনোমালিন্য থেকেই হয়তো এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। ঋতব্রতের পাশেই বসে সাংবাদিকদের সামনে মদন মিত্র স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের সাংগঠনিক সমস্ত দায়িত্ব ও পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন।
মমতার ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত মদন মিত্রের এই আচরণ কার্যত শাসকদলের জন্য এক বড় ধাক্কা। গত কয়েকদিন ধরেই দলের অন্দরে সাংগঠনিক মতপার্থক্য নিয়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। সেই জল্পনাকেই সত্যি করে বুধবার বিধানসভার ভেতরে বিরোধী নেতার ঘরে তাঁর এই উপস্থিতি রাজনীতির কারবারিদের কাছে যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মদন মিত্রের মতো একজন ক্যারিশম্যাটিক নেতার দলত্যাগ আসন্ন সময়ে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
মদন মিত্রের পরবর্তী রাজনৈতিক পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে এখন তুঙ্গে জল্পনা। তিনি কি অন্য কোনো শিবিরে যোগ দেবেন, নাকি স্বতন্ত্রভাবে নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখবেন—তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর চর্চা। যদিও মদন মিত্রের পক্ষ থেকে দলত্যাগ সংক্রান্ত পরবর্তী বিস্তারিত কোনো মন্তব্য মেলেনি, তবে তাঁর এই সিদ্ধান্ত যে রাজ্যের শাসকদলের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার মতো, তা বলাই বাহুল্য। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া না দিলেও, ঘটনাটি যে যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে, তা তাঁদের অস্বস্তিতেই স্পষ্ট।