মাছ ধরতে গিয়ে মিলল ‘গুপ্তধন’! বঙ্গোপসাগরের গভীরে জালে আটকে ৫০০ বছরের প্রাচীন মূর্তি

বঙ্গোপসাগরের গভীর নীল জলরাশি আজ যেন মৎস্যজীবীদের জন্য অকল্পনীয় এক বিস্ময় নিয়ে হাজির হয়েছে। মাছ ধরতে গিয়ে জালে মাছের পরিবর্তে উঠে এল প্রায় ৫০০ বছরের প্রাচীন এক বিশাল মূর্তি। অবিশ্বাস্য এই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে তামিলনাড়ুর মহাবলীপুরম উপকূলে।
ঘটনার সূত্রপাত পণ্ডীচেরি কারাইকাল ফিশিং হারবার থেকে যাওয়া ১৬ জন মৎস্যজীবীর একটি দলকে ঘিরে। গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় মধ্যরাতে তাঁদের জালে আচমকাই ভারী কিছু আটকে পড়ার অনুভূতি হয়। দীর্ঘক্ষণ প্রচেষ্টার পর যখন জাল উপরে তোলা হয়, তখন বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান মৎস্যজীবীরা। জালের সুতোয় পেঁচিয়ে রয়েছে এক বিশাল প্রাচীন মূর্তি। মৎস্যজীবীরা জানান, দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে এমন ঘটনার সাক্ষী তাঁরা আগে কখনও হননি।
মূর্তিটি উদ্ধারের পর মৎস্যজীবীরা দ্রুত কারাইকাল বন্দরে ফিরে আসেন এবং সুরক্ষার খাতিরে সেটি কারাইকালের ডেপুটি কালেক্টরের হাতে তুলে দেন। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ভিড় জমে যায় স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রত্নতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের অনুমান, উদ্ধার হওয়া এই মূর্তিটি ৫০০ বছরেরও বেশি পুরোনো এবং এর শিকড় তামিলনাড়ুর ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত।
পুলিশি তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, মূর্তিটি কোনোভাবে শ্রীলঙ্কায় পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছিল। কোস্ট গার্ড বা পুলিশের তল্লাশি এড়াতে পাচারকারীরা সম্ভবত ভয় পেয়ে বা মূর্তিটি সুরক্ষিত রাখতে না পেরে সমুদ্রে ফেলে পালিয়ে গিয়েছে। এই মূর্তিটি কীসের এবং কোন দেবদেবীর, তা নিশ্চিত করার জন্য এখন বিশেষ প্রত্নতাত্ত্বিক দলের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
পুরো ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এখন জোর কদমে পুলিশি তদন্ত চলছে। সমুদ্রের তলদেশে আরও কোনো প্রাচীন নিদর্শন লুকিয়ে আছে কি না, তা নিয়েও অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। মৎস্যজীবীদের এই সততা ও প্রশাসনিক তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় মানুষ। বঙ্গোপসাগরের গর্ভে লুকিয়ে থাকা এই ঐতিহাসিক নিদর্শনের রহস্যভেদে এখন তাকিয়ে আছে গোটা রাজ্য।