ফের খুলছে কামদুনি ফাইল? মুখ্যমন্ত্রীর দরবারে বিচার চেয়ে অশ্রুসিক্ত পরিবারের আর্তনাদ!

১৩ বছর পার, কিন্তু ক্যালেন্ডারের পাতার সঙ্গে বদলায়নি কামদুনিকাণ্ডের নিদারুণ ট্র্যাজেডি। ২০১৩ সালের ৭ জুন উত্তর ২৪ পরগনার কামদুনিতে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ ও খুনের সেই পৈশাচিক স্মৃতি আজও বাংলার মানুষের বুকে কাঁটার মতো বিঁধে আছে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর বিচারের আশায় চূড়ান্ত হতাশা ও ক্ষোভ নিয়ে বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবারে’ হাজির হলেন কামদুনির আন্দোলনের দুই পরিচিত মুখ মৌসুমি কয়াল ও টুম্পা কয়াল। সঙ্গে ছিলেন নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরাও।

কেন এই আকস্মিক সক্রিয়তা? মূল কারণ হলো তদন্তে চরম গাফিলতি এবং বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হওয়ার যন্ত্রণা। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য এই দীর্ঘ সময়ে বারবার সরকারি আইনজীবী (PP) পরিবর্তন করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, নিম্ন আদালতে যখন দোষীদের ফাঁসি ও আমৃত্যু কারাদণ্ডের নির্দেশ হয়েছিল, ঠিক তখনই বারবার আইনজীবী বদলের ফলে আইনি লড়াইয়ে দুর্বলতা তৈরি হয়। যার পরিণামে পরবর্তী ধাপে অভিযুক্তরা হাইকোর্ট থেকে রেহাই পেয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত বিচারের অপেক্ষায় তিতিবিরক্ত পরিবার ফের একবার ন্যায়বিচারের দাবি তুলল।

কামদুনির এই বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে গত এক দশকের বেশি সময় ধরে রাজ্যে চলেছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। সাম্প্রতিককালে আরজি কর কাণ্ডের প্রেক্ষিতে কামদুনির প্রসঙ্গ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই মামলার ফাইল নতুন করে খোলার দাবি জানিয়েছিলেন। যদিও সেই দাবির কোনো বাস্তব রূপায়ণ এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। এই প্রেক্ষাপটেই মৌসুমি ও টুম্পা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়ে তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও আইনি অসংগতি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন।

উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সালে ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল সিআইডি (CID)-কে। সেই থেকে মামলাটি আদালতের গোলকধাঁধায় আটকে রয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, তদন্তের বিভিন্ন পর্যায়ে গাফিলতি ছিল স্পষ্ট, যা অপরাধীদের খালাস পেতে সাহায্য করেছে। তাঁরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এত বছর পরেও অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তি না হওয়াটা শুধুমাত্র আইনি ব্যর্থতা নয়, বরং বৃহত্তর অমানবিকতা।

মুখ্যমন্ত্রীর ‘জনতার দরবার’ থেকে এই দুই প্রতিবাদী মুখ এবং নির্যাতিতার পরিবার শেষ পর্যন্ত কী সুবিচার পান, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। তবে তাঁদের এই সফর যে কামদুনিকাণ্ডের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতকে নতুন করে প্রাসঙ্গিক করে তুলল, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘ ১৩ বছরের প্রতীক্ষার পর সরকার এই মামলাটিকে নতুন করে গুরুত্ব দিয়ে বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে কি না।