সর্বমঙ্গলা মন্দিরে দুঃসাহসিক চুরি! বিপত্তারিণী পুজোর মুখে খোয়া গেল লক্ষাধিক টাকা

বর্ধমান শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শতাব্দীপ্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী সর্বমঙ্গলা মন্দিরে এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিপত্তারিণী পুজোর ঠিক আগে মন্দিরের পবিত্রতা নষ্ট করে দুষ্কৃতীদের এই আস্ফালন ভক্তদের মনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। শহরের অন্যতম প্রাচীন এই ধর্মীয় স্থানে নিরাপত্তার ফাঁকফোকর খুঁজে যেভাবে চুরির ঘটনা ঘটেছে, তা পুলিশের ভূমিকা এবং মন্দিরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
মঙ্গলবার ভোরে মন্দিরের কর্মীরা নিত্যপুজোর প্রস্তুতি নিতে গিয়ে প্রথম চুরির বিষয়টি লক্ষ্য করেন। মন্দিরের পশ্চিম দিকে, পুকুর সংলগ্ন প্রবেশদ্বারের তালা ভাঙা ছিল। ভেতরে প্রবেশ করতেই কর্মীদের চোখে পড়ে, চারটি প্রণামী বাক্সের তালা ভেঙে সেগুলো মাটিতে ফেলে রাখা হয়েছে। বাক্সগুলির ভেতরে থাকা নগদ অর্থ দুষ্কৃতীরা নিয়ে চম্পট দিয়েছে। ট্রাস্ট বোর্ডের অনুমান, প্রণামী বাক্সগুলি থেকে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা লুট হয়েছে, যদিও প্রকৃত পরিমাণ বাক্স গণনার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সর্বমঙ্গলা ট্রাস্ট বোর্ডের সম্পাদক সঞ্জয় ঘোষ জানান, সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট দেখা গিয়েছে, গভীর রাতে দু’জন ব্যক্তি মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করে প্রণামী বাক্সগুলি টেনে নিয়ে গিয়ে ভাঙছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা গিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে একজনের মুখে মাস্ক থাকলেও অন্যজনের মুখ খোলা ছিল। ঘটনার খবর পেয়েই বর্ধমান সদর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ আধিকারিকরা দীর্ঘক্ষণ ধরে এলাকাটি খতিয়ে দেখেন এবং তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালান।
ট্রাস্ট বোর্ডের লাইফ মেম্বার ও চিকিৎসক শ্যামলেন্দু চ্যাটার্জি বলেন, “বহু বছর পর মন্দিরে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটল। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, রাত দেড়টা থেকে দু’টোর মধ্যে এই ঘটনাটি ঘটেছে।” ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে নিয়েছে যে, মন্দিরের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই লক্ষ্যে অতিরিক্ত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো এবং বেসরকারি নিরাপত্তা কর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, পুজোর মরশুমের ঠিক আগে শহরের একটি প্রধান মন্দিরে এই চুরির ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। সাধারণ ভক্তদের দাবি, শুধুমাত্র এই মন্দির নয়, জেলার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলিতেও নিরাপত্তার ব্যবস্থা আরও নিশ্ছিদ্র করা হোক। পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ ও ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত অন্যান্য সূত্রের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুতই দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে পুলিশ প্রশাসনের তরফ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।