রেলযাত্রায় বড় পরিবর্তন! ছোটখাটো অপরাধে আর জেল নয়, ঘটনাস্থলেই মিটিয়ে নিন জরিমানা

ভারতীয় রেলওয়ে যাত্রীদের সুবিধার্থে এবং বিচার ব্যবস্থাকে আরও সহজতর করতে রেলওয়ে আইন, ১৯৮৯-এ বড় ধরনের সংশোধনী এনেছে। ‘পাবলিক ট্রাস্ট অ্যাক্ট ২০২৬’-এর অধীনে বেশ কিছু ছোটখাটো অপরাধকে ফৌজদারি মামলার আওতা থেকে সরিয়ে আর্থিক জরিমানার আওতায় আনা হয়েছে। রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (RPF) এবং ইস্ট কোস্ট রেলওয়ের পক্ষ থেকে এই নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

নতুন নিয়ম ও সুবিধা:

নতুন সংশোধনীর ফলে এখন থেকে ছোটখাটো অপরাধের জন্য যাত্রীদের আদালতে দৌড়াতে হবে না। অভিযুক্ত ঘটনাস্থলেই জরিমানা পরিশোধ করে মামলা থেকে মুক্তি পেতে পারেন। তবে, জরিমানা দিতে অস্বীকার করলে মামলাটি উপযুক্ত আদালতে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে এটিও মনে রাখা জরুরি যে, বারবার একই অপরাধ করলে পূর্বের মতোই কঠোর শাস্তি এবং কারাদণ্ডের বিধান বহাল থাকবে। এছাড়া, আইনের ১৫৮ এবং ১৭৬ ধারা বিলুপ্ত করে সংশ্লিষ্ট বিধানগুলো ১৭৯ ধারার অধীনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এক নজরে নতুন জরিমানার তালিকা:

অপরাধের ধরণধারাজরিমানার পরিমাণ
টিকিটহীন বা জাল টিকিট ভ্রমণ১৩৭সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা
অনুমতি ছাড়া অতিরিক্ত দূরত্ব ভ্রমণ১৩৮সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা
অন্যের টিকিটে ভ্রমণ (ট্রান্সফার টিকেট)১৪২সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা
লাইসেন্সহীন হকারি বা ভিক্ষা করা১৪৪২,০০০ টাকা
মদ্যপান, উপদ্রব বা অশ্লীল আচরণ১৪৫১,০০০ টাকা পর্যন্ত
রেল কর্মচারীর কাজে বাধা দান১৪৬সর্বোচ্চ ২,৫০০ টাকা
রেল চত্বরে অননুমোদিত প্রবেশ১৪৭৫০০ টাকা
সংরক্ষিত কামরায় অননুমোদিত প্রবেশ১৫৫(১)২,০০০ টাকা
সংরক্ষিত আসন বা বার্থ খালি না করা১৫৫(২)১,০০০ টাকা
রেলের ট্র্যাফিক নির্দেশ অমান্য করা১৫৯৫০০ টাকা
মহিলা কামরায় পুরুষদের প্রবেশ১৬২২,৫০০ টাকা
বিপজ্জনক বা নিষিদ্ধ দ্রব্য বহন১৬৫সর্বনিম্ন ১০,০০০ টাকা
রেলের সম্পত্তি বা নোটিস বোর্ড বিকৃত১৬৬২,০০০ টাকা (প্রথমবার)
ট্রেনে ধূমপান করা১৬৭২,০০০ টাকা

রেল কর্তৃপক্ষের এই পদক্ষেপটি যাত্রীদের হয়রানি কমাতে এবং রেল পরিষেবা পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে। সকল যাত্রীকে রেলের এই পরিবর্তিত নিয়মাবলি মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।