ক্লাস নাইনে ফেল থেকে বলিউডের সফল পরিচালক! ব্যর্থতাকে জয় করে কীভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন ইমতিয়াজ আলি?

গীতের প্রাণখোলা হাসি কিংবা ভীরার মুক্তির স্বাদ—ইমতিয়াজ আলির ছবির চরিত্রগুলো যেন আমাদেরই জীবনের কোনো না কোনো প্রতিচ্ছবি। তিনি এমন এক পরিচালক, যিনি পর্দায় তুলে আনেন আত্মপরিচয়ের খোঁজে থাকা সাধারণ মানুষদের গল্প। তবে আজকের এই সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো ইমতিয়াজের পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। তাঁর সাফল্যের ঠিক উল্টো পিঠেই রয়েছে এক বড় ব্যর্থতার গল্প, যা আজকের প্রজন্মের জন্য এক জ্বলন্ত অনুপ্রেরণা।

ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরে বেড়ে ওঠা ইমতিয়াজ ছোটবেলায় পড়াশোনায় খুব একটা উজ্জ্বল ছিলেন না। ক্লাস নাইনে ফেল করার সেই দুঃসহ স্মৃতি আজও তাঁকে তাড়িয়ে বেড়ায়। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, সেই ফলাফল প্রকাশের পর টানা দুদিন তিনি স্কুলে যাওয়ার সাহসটুকুও সঞ্চয় করতে পারেননি। স্কুলের গেট পর্যন্ত গিয়েও ফিরে আসতেন, কারণ সহপাঠীদের উপহাস এবং ব্যর্থতার গ্লানি তাঁকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিল। কিন্তু সেই চরম মুহূর্তটিই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল।

ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইমতিয়াজ নিজের শেখার পদ্ধতি বদলে ফেলেন। মুখস্থ বিদ্যার বদলে বিষয়ের গভীরে গিয়ে বোঝার চেষ্টা শুরু করেন তিনি। তাঁর এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গিই তাঁকে সাফল্যের স্বাদ এনে দেয়। যে ছাত্র একসময় পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছিলেন, তিনিই পরবর্তীকালে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং স্নাতক স্তরে প্রথম স্থান অধিকার করেন। এই সাফল্যই প্রমাণ করে, হোঁচট খাওয়া মানেই সব শেষ হয়ে যাওয়া নয়।

তবে পড়াশোনা কেবল তাঁর লক্ষ্য ছিল না। কলেজ জীবনেই থিয়েটারের প্রতি তাঁর গভীর টান তৈরি হয়। নাটক লেখা, মঞ্চে অভিনয় এবং পথনাটিকার মাধ্যমে তিনি মানুষের মনের ভাষা পড়তে শেখেন। দিল্লি থেকে মুম্বইয়ের সফর শুরু হয় ছোটপর্দার হাত ধরে, কিন্তু তাঁর আসল গন্তব্য ছিল বড় পর্দা। ‘জব উই মেট’, ‘রকস্টার’, ‘হাইওয়ে’ বা ‘তামাশা’-র মতো কালজয়ী ছবির মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, সুপারহিরোর চেয়ে সাধারণ মানুষের আবেগ আর সংগ্রামের গল্প অনেক বেশি শক্তিশালী।

সম্প্রতি ‘ম্যায় ওয়াপাস আয়ুঙ্গা’ ছবির প্রচারে কলকাতায় এসে তিনি তাঁর জীবনের এই অজানা অধ্যায়গুলো শেয়ার করেন। বৃষ্টিভেজা তিলোত্তমার আড্ডায় তিনি বুঝিয়ে দিলেন, সিনেমার চরিত্রগুলোর মতো তাঁর নিজের জীবনও এক দীর্ঘ যাত্রাপথ। ব্যর্থতার যন্ত্রণা থেকে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করার যে সাহস তিনি দেখিয়েছেন, তা আজও লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রেরণা জোগায়। আজকের ইমতিয়াজ আলি শুধুমাত্র একজন পরিচালক নন, তিনি ব্যর্থতার গহ্বর থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর এক জীবন্ত প্রতীক। তাঁর জীবনের গল্প আমাদের শেখায় যে, ব্যর্থতা আসলে নতুন কোনো গল্পের শুরু হতে পারে, যদি সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা যায়।