সাইবার প্রতারণার টাকা কোথায় রাখা হয়েছিল? নিউটাউনে ২ কোটি টাকা উদ্ধার, গ্রেফতার চক্রের মূল পান্ডা

নিউটাউনের ঝকঝকে আবাসন এখন অপরাধীদের আখড়ায় পরিণত হচ্ছে কি? এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের সাম্প্রতিক এক সফল অভিযানের পর। সোমবার গভীর রাতে নিউটাউনের একটি বিলাসবহুল আবাসনে হানা দিয়ে পুলিশ প্রায় ২ কোটি টাকা নগদ উদ্ধার করেছে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ উদ্ধারের ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই বিশেষ তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।

ঘটনার সূত্রপাত সোমবার মাঝরাতে। গোপন সূত্রে সাইবার প্রতারণার বিপুল টাকা মজুদ থাকার খবর পৌঁছায় বিধাননগর পুলিশের কাছে। দেরি না করে নিউটাউনের এসিপি উৎসা শ্রীমানির নেতৃত্বে উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের একটি দল ওই নির্দিষ্ট ফ্ল্যাটে পৌঁছন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশি তৎপরতা বাড়তে থাকে এবং গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু করেন গোয়েন্দারা। প্রায় ঘণ্টা কয়েক তল্লাশির পর উদ্ধার হয় ২ কোটি টাকার নগদ বান্ডিল। ঘটনাস্থল থেকেই এক মহিলা-সহ মোট সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে ফ্ল্যাটটিকে ইতিমধ্যেই সিল করে দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই বিশাল অঙ্কের টাকা কোনো সাধারণ লেনদেনের অংশ নয়। এটি কোনো বড় মাপের সাইবার প্রতারণা চক্রের অশুভ কারবার হতে পারে বলেই পুলিশ মনে করছে। ধৃতদের কাছে এই বিপুল পরিমাণ টাকার উৎস বা বৈধ কোনো নথিপত্র না থাকায় সন্দেহের মাত্রা আরও বেড়েছে। পুলিশ আধিকারিকরা মনে করছেন, এই চক্রের শিকড় অনেক গভীরে। ধৃত সাতজনকে জেরা করে এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং এতদিন ধরে তারা নিউটাউনের ওই ফ্ল্যাট থেকে কী ধরনের কার্যকলাপ চালাচ্ছিল, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

অভিযানের সময় পুলিশ কেবল টাকাই উদ্ধার করেনি, উদ্ধার করেছে সন্দেহজনক বিভিন্ন সামগ্রী এবং তথ্যপ্রমাণ। পাশাপাশি, ওই ফ্ল্যাটের সামনে থাকা চারটি গাড়িও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ফ্ল্যাটের মালিক এবং আবাসনের অন্যান্য আবাসিকদের বয়ান রেকর্ড করে গোটা ঘটনাপ্রবাহের যোগসূত্র খোঁজার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা। স্থানীয়দের মতে, আবাসন এলাকায় এমন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের উপস্থিতি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চিন্তার উদ্রেক করেছে।

বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগ এখন এই ঘটনার পেছনে থাকা মাস্টারমাইন্ডের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী তদন্তকারীরা। সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশের এই সময়োচিত পদক্ষেপ প্রশংসিত হলেও, নিউটাউনের মতো আধুনিক জনপদে অপরাধী চক্রের এই ধরনের মজুতদারি শহরবাসীকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং পুলিশি নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।