বর্ষায় খরার আতঙ্ক! টানা এক সপ্তাহ বৃষ্টির নামগন্ধ নেই, ভারতের বড় অংশে জারি সতর্কতা

একদিকে যখন পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে টানা বৃষ্টির দাপট, তখন ভারতের বাকি অংশের আবহাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে গভীর উদ্বেগ। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে দেশজুড়ে এক অস্বাভাবিক ‘মনসুন ব্রেক’ (Monsoon Break) পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যার ফলে আগামী অন্তত ছয় থেকে সাত দিন উত্তর-পশ্চিম, পশ্চিম-মধ্য ভারত এবং দক্ষিণ উপদ্বীপীয় অঞ্চলে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। মৌসুমী বৃষ্টিপাত এমনিতেই গড়ের তুলনায় কম হওয়ায়, এই আচমকা খরা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়া কৃষিব্যবস্থা ও জনজীবনে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্যাটেলাইট চিত্রে ভয়ংকর ছবি
‘লাইভ ওয়েদার অফ ইন্ডিয়া’-এর প্রতিষ্ঠাতা নবদীপ দাহিয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় ভারতের সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্র শেয়ার করে যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তা রীতিমতো আতঙ্কিত করার মতো। তিনি জানিয়েছেন, পশ্চিমঘাট পর্বতমালা থেকে শুরু করে দেশের মূল ‘কোর মনসুন জোন’—কোথাও কোনো মেঘের উপস্থিতি নেই। বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগর, উভয় দিকেই মেঘের পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য। তিনি স্পষ্ট বলেন, “ছবিটি দেখে মনে হচ্ছে এটি জুলাই মাসের মধ্যভাগ নয়, বরং এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়।” ১৮ জুলাইয়ের আগে এই পরিস্থিতির কোনো উন্নতির আশা নেই।
কেন এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি?
আবহাওয়াবিদ এবং স্কাইমেট ওয়েদারের প্রধান মহেশ পাহলাওয়াত জানিয়েছেন, ১৯-২০ জুলাইয়ের আগে পশ্চিম-উত্তর এবং মধ্য ভারতে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। এর ফলে দিল্লি ও এনসিআর (NCR) অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে পৌঁছাতে পারে। সাধারণত জুলাই-আগস্ট মাসে ‘মনসুন ব্রেক’ এক-দুবার হলেও, এই বছরের স্থায়িত্ব ও তীব্রতা উদ্বেগজনক। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই সময়ে আর্দ্রতা কমে যায় এবং আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায়, যা খরা পরিস্থিতিকে আরও প্রকট করে তোলে।
কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ
বর্তমানে ভারতে খরিফ ফসলের মৌসুম চলছে। কৃষিকাজের সিংহভাগই বর্ষার বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। উত্তর-পশ্চিম ও মধ্য ভারতের অধিকাংশ এলাকা যখন শুষ্ক হয়ে পড়ছে, তখন কৃষকরা তাদের ফসল নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। যদিও পাহাড়ি এলাকায় কিছু বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, কিন্তু সমতলের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন খরার মুখে।
সামনের দিনগুলো কেমন থাকবে?
আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৯-২০ জুলাই নাগাদ মনসুন সিস্টেমটি দক্ষিণ দিকে এগোতে পারে। তখনই এসব অঞ্চলে পুনরায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ততদিন পর্যন্ত দেশবাসীকে তীব্র ভ্যাপসা গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার মোকাবিলা করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের এমন বিরূপ প্রভাব ভারতের মতো কৃষিনির্ভর দেশে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।