পাহাড়ে ধসের আশঙ্কা! ১৬ জুলাই রথযাত্রার আগে আবহাওয়ার বড় আপডেট, জেনে নিন আপনার জেলার খবর

রথযাত্রা উৎসবের প্রাক্কালেই ফের দুর্যোগের মেঘ দুই বাংলায়। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১৪ ও ১৫ জুলাই দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একদিকে যেমন ঘূর্ণাবর্তের প্রভাব, অন্যদিকে বঙ্গোপসাগর থেকে আসা প্রচুর জলীয় বাষ্পের কারণে আকাশ মেঘলা থাকবে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতাও জারি করেছে হাওয়া অফিস।

উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া ও সতর্কতা:
১৪ জুলাই উত্তরবঙ্গের সমস্ত জেলাতেই হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষ করে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ১৫ জুলাই উত্তরবঙ্গের অনেক জায়গায় বৃষ্টি জারি থাকবে এবং দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের কিছু অংশে ভারী বর্ষণ হতে পারে। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, ভারী বৃষ্টির ফলে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা ও রায়ডাক নদীর জলস্তর বৃদ্ধির বিষয়েও এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গের জেলাভিত্তিক পূর্বাভাস:
১৪ জুলাই দক্ষিণবঙ্গের ক্ষেত্রে দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া ও দুই মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বাকি জেলাগুলোতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। ১৫ জুলাই দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং বাঁকুড়া জেলায় ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ১৫ তারিখে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ নিয়ে বিশেষ সতর্কতা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব মেদিনীপুরে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার এবং দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলোতে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

মৎস্যজীবীদের জন্য নির্দেশিকা:
১৪ জুলাই পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ কোনো সতর্কতা জারি না থাকলেও, ১৫ জুলাই থেকে সমুদ্রে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ঘণ্টায় ৩৫ থেকে ৪৫ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইবার সম্ভাবনা থাকায় মৎস্যজীবীদের ১৫ জুলাই থেকে গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।

দুই বঙ্গেই নিচু এলাকায় সাময়িক জল জমা এবং খোলা মাঠে বজ্রপাতের আশঙ্কার কারণে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বাজ পড়ার হাত থেকে বাঁচতে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। রথযাত্রার দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় উৎসবের আমেজ কিছুটা হলেও বিঘ্নিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন রাজ্যবাসী। সব মিলিয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টা দুই বঙ্গের আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।