আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স কিনতে গিয়ে পকেট খালি হবে? আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে তোলপাড় প্রযুক্তি বিশ্ব!

হাতে এখনও কয়েক মাস সময় বাকি, অথচ প্রযুক্তি বিশ্বে এখন চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে অ্যাপলের পরবর্তী প্রিমিয়াম ফ্ল্যাগশিপ ‘আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স’। তবে এবারের আলোচনা যতটা না ফোনের নতুন ফিচার নিয়ে, তার চেয়ে বেশি হচ্ছে এর সম্ভাব্য আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, মেমোরি চিপের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে অ্যাপলের এই নতুন মডেলটি কিনতে সাধারণ ক্রেতাদের পকেটে বড়সড় টান পড়তে পারে।
কেন বাড়ছে আইফোনের দাম?
প্রযুক্তি বিষয়ক খ্যাতনামা গবেষণা সংস্থা ‘কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ’-এর রিপোর্ট বলছে, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স-এ ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের খরচ আগের মডেল অর্থাৎ আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স-এর তুলনায় প্রায় ৩০০ মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৮,৬০০ টাকা) বেশি হতে চলেছে। এর মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান চাহিদা। এর ফলে DRAM এবং NAND ফ্ল্যাশ মেমোরির দাম ব্যাপক হারে বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্মার্টফোনের সামগ্রিক উৎপাদন খরচে।
ভারতে সম্ভাব্য দামের তালিকা:
যন্ত্রাংশের এই বর্ধিত খরচ যদি ফোনের চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্যের ওপর প্রভাব ফেলে, তবে ভারতে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স-এর দাম কোথায় গিয়ে পৌঁছতে পারে, তার একটি আনুমানিক খতিয়ান সামনে এসেছে:
| স্টোরেজ ক্যাপাসিটি | সম্ভাব্য দাম (ভারতীয় টাকা) |
| ২৫৬ জিবি | প্রায় ১,৭৮,৫০০ টাকা |
| ৫১২ জিবি | প্রায় ১,৯৮,৫০০ টাকা |
| ১ টিবি | প্রায় ২,১৮,৫০০ টাকা |
| ২ টিবি | প্রায় ২,৫৮,৫০০ টাকা |
বিশেষ দ্রষ্টব্য:
পাঠকদের মনে রাখা জরুরি যে, এই দামগুলি অ্যাপল কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নয়। এগুলি কেবলমাত্র ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচের ওপর ভিত্তি করে করা একটি বাজার অনুমান। অ্যাপল যখন ভারতে তাদের লজিস্টিকস খরচ, আমদানি শুল্ক (Import Duty) এবং ট্যাক্স কাঠামো বিবেচনা করবে, তখন চূড়ান্ত দাম কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে। তবে প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের বাজারে অ্যাপল যে এবার খরচের নতুন রেকর্ড গড়তে চলেছে, তা প্রায় নিশ্চিত।
প্রযুক্তি দুনিয়ার চোখ এখন অ্যাপলের পরবর্তী ইভেন্টের দিকে—দেখা যাক, দামের এই পাহাড় ডিঙিয়ে ভক্তদের নতুন কী উপহার দেয় আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স।