তৃণমূলের সব অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়নি! আদালতে ইডির বিস্ফোরক দাবি, স্থগিত রায়দান

তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) ফ্রিজ করেছে—এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে হাইকোর্টে শেষ হলো শুনানি। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি শেষে আপাতত রায়দান স্থগিত রাখা হয়েছে। ইডির জমা দেওয়া রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই আদালত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

আদালতে দুই পক্ষের লড়াই: শুনানিতে তৃণমূলের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি ও কিশোর দত্ত অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক দলের স্বাভাবিক কাজকর্ম ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে পরিকল্পিতভাবে অ্যাকাউন্টগুলি বন্ধ করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং পিএমএলএ (PMLA) আইনের অপপ্রয়োগ।

এর পাল্টা জবাবে ইডির অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু আদালতে জানান, তৃণমূলের দাবি ভিত্তিহীন। ইডির দাবি, মোট আটটি অ্যাকাউন্টের মধ্যে মাত্র তিনটি ফ্রিজ করা হয়েছে। বাকি অ্যাকাউন্টগুলোতে প্রায় ২০০ কোটি টাকা লেনদেনের সুযোগ রয়েছে, ফলে দল পরিচালনায় আর্থিক সংকটের কোনো অবকাশ নেই। ইডি জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।

ঋতব্রতর আবেদন খারিজ: এদিন মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলাটিতে ‘পার্টি’ হওয়ার আবেদন খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। বিচারপতি স্পষ্ট জানান, যেহেতু দলের কর্তৃত্ব নিয়ে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের বিচারাধীন, তাই এই মুহূর্তে আদালত সেই বিতর্কে প্রবেশ করবে না।

রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল: তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত এই আইনি লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। রাজনৈতিক মহলের মতে, হাইকোর্টের এই রায় রাজ্যের রাজনীতির ভবিষ্যতের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। এখন সবার নজর, ইডির জমা দেওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতে আদালত কী পর্যবেক্ষণ দেয়।