শিশুদের নিয়ে নগ্ন ভিডিওর রমরমা! ইন্সটাগ্রামের অশালীন বিজ্ঞাপন নিয়ে মুখ খুলল মেটা

ইন্সটাগ্রামে শিশুদের কেন্দ্র করে অশালীন বিজ্ঞাপন ও কন্টেন্ট ছড়ানোর অভিযোগে তোলপাড় হয়েছিল দেশজুড়ে। এই বিতর্কিত বিষয়ে অবশেষে সরকারি নোটিশের জবাব দিল ফেসবুক ও ইন্সটাগ্রামের মূল সংস্থা মেটা। ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রকের (MeitY) সচিব এস. কৃষ্ণন আজ নিশ্চিত করেছেন যে, মেটার কাছ থেকে তাদের উত্তর পাওয়া গেছে এবং বর্তমানে সেই নথির বিশদ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, মন্ত্রক এই উত্তরের চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে এবং তদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী পরবর্তী কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সম্প্রতি বিবিসি-র এক চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল যে, ইন্সটাগ্রামে এমন কিছু পেইড বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে যেখানে ‘চাইল্ড ভিডিও’-এর মতো শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এই বিজ্ঞাপনগুলোর সাথে যুক্ত লিঙ্কে ক্লিক করলেই গ্রাহকদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল টেলিগ্রাম চ্যানেলে, যেখানে মাত্র ৯৯ টাকার বিনিময়ে শিশুদের সঙ্গে জড়িত অশালীন ও আপত্তিজনক ভিডিও বিক্রি করা হচ্ছিল। এই ভয়াবহ রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে ভারত সরকার। তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রকের পক্ষ থেকে মেটাকে একটি কঠোর নোটিশ পাঠিয়ে এই ধরনের বিজ্ঞাপন বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশদ রিপোর্ট তলব করা হয়।
শনিবার ছিল মেটার জবাব দেওয়ার শেষ সময়সীমা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তারা তাদের বক্তব্য মন্ত্রকের কাছে জমা দিয়েছে। এই বিষয়ে আইটি সচিব এস. কৃষ্ণন জানিয়েছেন, “আমরা মেটার উত্তর পেয়েছি। এখন আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। আমরা নিশ্চিত করতে চাই যে শিশুদের নিরাপত্তা এবং অনলাইন সুরক্ষা যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়। তদন্ত শেষ হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সরকারি নোটিশ পাওয়ার পরেই মেটা তাদের পক্ষ থেকে একটি ব্লগ পোস্টের মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা করেছে। তারা জানিয়েছে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা তাদের প্ল্যাটফর্মে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে। তাদের দাবি, স্বয়ংক্রিয় ডিটেকশন সিস্টেমের মাধ্যমে এই ধরনের ক্ষতিকারক কন্টেন্ট চিহ্নিত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি, বিজ্ঞাপন যাচাইকরণ প্রক্রিয়া (Ad Review Process) আরও কঠোর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সংস্থাটি। তারা আরও জানিয়েছে, যুবসমাজকে সুরক্ষিত রাখতে প্রযুক্তির আধুনিকীকরণে বিপুল বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
তবে মেটার এই আশ্বাস সত্ত্বেও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলছেন, এত বড় সুরক্ষা প্রাচীর থাকা সত্ত্বেও কীভাবে শিশুদের অশালীন কন্টেন্ট পেইড বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সরাসরি প্রচারের সুযোগ পেল? এই গোটা প্রক্রিয়ায় মেটার অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা রয়েছে কি না, তা নিয়ে সরব হয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। শিশুদের সুরক্ষার প্রশ্নে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে সরকার। আপাতত মন্ত্রকের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে সাইবার মহল।