মনোনয়ন জমার পরেই গ্রেফতার জেজেডি প্রার্থী, বিহারের রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য

পাটনার বাঁকীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন ঘিরে বিহারের রাজনৈতিক আঙিনায় চরম উত্তেজনা। মনোনয়ন জমা দেওয়ার ঠিক পরেই জনশক্তি জনতা দল (জেজেডি) প্রার্থী বীণা মানবীর গ্রেফতারি নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। পুলিশ জানিয়েছে, ২০০৯ সালের একটি ৪২০ ধারায় প্রতারণা সংক্রান্ত মামলায় আদালতের ওয়ারেন্ট জারি ছিল, সেই নির্দেশেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এই গ্রেফতারির ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে অভিহিত করেছেন জেজেডি সভাপতি তেজপ্রতাপ যাদব।
দিল্লিতে থাকাকালীন এক প্রতিক্রিয়ায় তেজপ্রতাপ যাদব বলেন, “এরা গভীর ষড়যন্ত্র করছে, কিন্তু এই অপচেষ্টা বেশিদিন টিকবে না। আমি দ্রুত বিহারে ফিরছি। রাজ্যে ফিরেই আমার সুদর্শন চক্র চলবে এবং সরকারের বিরুদ্ধে বড় আন্দোলনের ডাক দেব।” তেজপ্রতাপ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তারা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হবেন। তিনি আরও বলেন, “আমি বীণা মানবীর পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছি। বিচারব্যবস্থার ওপর আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে এবং আমরা আমাদের অধিকারের সুরক্ষার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়ব।”
এদিকে, দলের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানানো হয়েছে যে, মনোনয়ন জমার দিনে পুলিশের এই পদক্ষেপ নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। জেজেডি মনে করে, তাদের প্রার্থীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বাঁকীপুরের সাধারণ মানুষ সত্য ও ন্যায়ের পক্ষেই থাকবেন এবং শেষ পর্যন্ত সত্যেরই জয় হবে বলে দলের পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাঁকীপুর বিধানসভা আসনটি আসন্ন উপনির্বাচনের কারণে এখন বিহারের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে এই ধরনের ঘটনা ভোটের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। একদিকে যখন তেজপ্রতাপ যাদব এই ঘটনাকে ক্ষমতার অপব্যবহার বলে আক্রমণ করছেন, অন্যদিকে এই আসনে জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোরও লড়াইয়ে নেমেছেন। প্রশান্ত কিশোরের এই কেন্দ্র থেকে নির্বাচনী রাজনীতিতে অভিষেক হওয়ার ফলে বাঁকীপুর এখন ত্রিমুখী লড়াইয়ের অপেক্ষায়। পুলিশের ভূমিকা এবং তেজপ্রতাপের ‘সুদর্শন চক্র’ হুঁশিয়ারি বিহারের নির্বাচনী উত্তাপকে কোন উচ্চতায় নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।