রাতারাতি গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েই রাজ্যসভার টিকিট! সুখেন্দু-সুস্মিতা-প্রকাশের মনোনয়ন ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড়

রাজ্যসভার উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সোমবার রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি হলো। বিধানসভায় গিয়ে সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক। তৃণমূলের সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগের পর বিজেপিতে যোগ দেওয়া এই তিন হেভিওয়েট নেতাকে নিয়ে রাজ্যজুড়ে জোর জল্পনা চলছে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মনোনয়ন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে বিস্তর চর্চা। সম্প্রতি বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য কড়া ভাষায় জানিয়েছিলেন যে, দল এখন থেকে তৃণমূল নেতাদের জন্য দরজা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। কোনো অবস্থাতেই আর দলবদলের সুযোগ দেওয়া হবে না। এমন কড়া অবস্থানের ঠিক পরেই সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইককে দলে নেওয়া এবং মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তাঁদের রাজ্যসভার প্রার্থী করা রাজনৈতিক মহলে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। যদিও এই যোগদানের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে শমীক ভট্টাচার্য এটিকে একটি ‘ব্যতিক্রমী ঘটনা’ হিসেবেই তুলে ধরেছেন।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই জোড়াফুল শিবিরে ভাঙনের সুর শোনা যাচ্ছে। সেই অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই পর্যায়ক্রমে ইস্তফা দিয়েছিলেন এই তিন প্রাক্তন সাংসদ। গত ৮ জুন সুখেন্দুশেখর রায়, ১০ জুন সুস্মিতা দেব এবং ১১ জুন প্রকাশ চিক বরাইক সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করেন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৪ জুলাই পশ্চিমবঙ্গ থেকে খালি হওয়া এই তিনটি আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৪ জুলাই মনোনয়ন জমার শেষ দিন ছিল, ১৫ জুলাই স্ক্রুটিনি এবং ১৭ জুলাই প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে। ২৪ জুলাই সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে।
বর্তমান বিধানসভার পাটিগণিত বিচার করলে দেখা যাচ্ছে, এই তিনটি আসনেই বিজেপির জয় কার্যত সময়ের অপেক্ষা। বিধানসভা নির্বাচনে ২০৮টি আসন পেয়ে বিজেপি এখন প্রবল শক্তিশালী। অন্যদিকে, তৃণমূলসহ বিরোধী শিবিরের আসন সংখ্যা মাত্র ৮৫। বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের বিভাজন বিরোধী শিবিরকে আরও কোণঠাসা করে ফেলেছে। সব মিলিয়ে সংখ্যার বিচারে বিরোধী শিবির এতটাই দুর্বল যে, রাজ্যসভার এই তিনটি আসনে বিজেপির প্রার্থীদের জয় এখন স্রেফ আনুষ্ঠানিকতার দাবি রাখে। নির্বাচনের আগে এই তিন হেভিওয়েট নেতার বিজেপিতে আসা এবং রাজ্যসভায় মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।