অযোধ্যার পর এবার মথুরা! কৃষ্ণ জন্মভূমি মুক্ত করতে ৯ই আগস্ট বড় আন্দোলনের ডাক সাধু সমাজের

অযোধ্যার রাম মন্দির প্রতিষ্ঠার সাফল্যের পর এবার উত্তরপ্রদেশের মথুরায় শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমিকে সম্পূর্ণ মুক্ত করার দাবি তীব্রতর হয়ে উঠেছে। এই আবেগকে সামনে রেখে দেশের সাধু সমাজ আগামী ৯ই আগস্ট একটি বড় ধরনের ‘কর সেবা’ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। সনাতনীদের কাছে এটি কেবল একটি ধর্মীয় দাবি নয়, বরং বিশ্বাসের চূড়ান্ত পরীক্ষা বলে মনে করছেন সাধুরা।

সম্প্রতি হরিদ্বারে এক উচ্চপর্যায়ের সভায় কালী সেনার জাতীয় সভাপতি স্বামী আনন্দ স্বরূপসহ দেশের বিশিষ্ট সাধুরা এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন মনসা দেবী ট্রাস্টের সভাপতি মহন্ত রবীন্দ্র পুরী, শ্রী চিত্রগুপ্ত পীঠের প্রধান জগদ্গুরু ডঃ স্বামী সচ্চিদানন্দ এবং স্বামী বালাকানন্দ। সাধুদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, “অযোধ্যার পর এবার মথুরার পালা। এখন না হলে আর কখনোই নয়।”

এই ঘোষণাকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন অযোধ্যার সাধু সম্প্রদায়। সাকেত ভবনের মহন্ত সীতারাম দাস বলেন, যেভাবে অযোধ্যায় কর সেবকরা বিতর্কিত কাঠামো অপসারণ করেছিলেন, মথুরার ক্ষেত্রেও এখন সময় এসেছে সেই একই মানসিকতা প্রদর্শনের। জগদ্গুরু স্বামী সচ্চিদানন্দ বলেন, “আমরা ৯ই আগস্ট তারিখটি নির্দিষ্ট করেছি। রাম লালার মতো ভগবান কৃষ্ণকেও তাঁর প্রকৃত জন্মস্থানেই প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই কাজে আমরা কোনো বিলম্ব সহ্য করতে রাজি নই।”

যদিও সাধু সমাজ আন্দোলনের পথে, তবুও তারা সরকারের ভূমিকার ওপর নজর রাখছে। স্বামী আনন্দ স্বরূপ জানান, ৯ই আগস্ট ভারতে ‘বিপ্লব দিবস’ হিসেবে পালিত হয়, তাই এই দিনটি নির্বাচনের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সরকার যদি তার আগেই মন্দির নির্মাণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে দেয়, তবে আর কর সেবার প্রয়োজন পড়বে না। তিনি বলেন, “উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ইতিমধ্যেই কৃষ্ণ মন্দির নির্মাণের সদিচ্ছা প্রকাশ করেছেন। আশা করি, ৯ই আগস্টের আগেই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ঘোষিত হবে। যদি তা না হয়, তবেই আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর সেবা শুরু করব।”

এদিকে, এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে হরিদ্বার থেকে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ সাধু মথুরার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অখিল ভারতীয় আখাড়া পরিষদের সভাপতি মহন্ত রবীন্দ্র পুরী সারা দেশের ভক্তদের প্রতি ‘চলুন মথুরা যাই’ ডাক দিয়ে এই আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি একটাই—অবিলম্বে কৃষ্ণ মন্দিরের নির্মাণকাজ শুরু করা হোক এবং ধর্মীয় ঐতিহ্যের পুনর্প্রতিষ্ঠা করা হোক। সব মিলিয়ে মথুরা কেন্দ্রিক এই নতুন আন্দোলন দেশের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মহলে যে নতুন উত্তাপ সৃষ্টি করবে, তা বলাই বাহুল্য।