ক্যারাটে শেখানোর নামে নাবালিকাদের ওপর যৌন লালসা! এনজিও কোষাধ্যক্ষের গ্রেফতারিতে চাঞ্চল্য

দক্ষিণ কলকাতার সার্ভে পার্ক থানা এলাকার একটি এনজিও পরিচালিত আবাসিক হস্টেলে নাবালিকা আবাসিককে দীর্ঘ সময় ধরে যৌন নিগ্রহের অভিযোগে উত্তাল শহর। এই ঘটনায় অভিযুক্ত এনজিওর কোষাধ্যক্ষ তথা মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষক প্রসেনজিৎ দাসকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণের আড়ালে কুৎসিত অভিসন্ধি
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত প্রসেনজিৎ ওই এনজিওর কোষাধ্যক্ষ হওয়ার পাশাপাশি আবাসিকদের ক্যারাটে ও কুংফুর প্রশিক্ষণ দিত। অভিযোগ, প্রশিক্ষণের সুযোগ নিয়ে নাবালিকাদের অনুপযুক্তভাবে স্পর্শ করত সে। এরপর বিভিন্ন অজুহাতে তাদের নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে গিয়ে চলত যৌন নির্যাতন। এক নির্যাতিতা জানায়, প্রায় এক বছর আগে তার ওপর অত্যাচার শুরু হয়েছিল এবং দীর্ঘ চার মাস ধরে তা অব্যাহত ছিল। প্রতিবাদ করলে তাকে প্রাণে মারার হুমকিও দেওয়া হতো।

শিক্ষকের তৎপরতায় ফাঁস হয় রহস্য
দীর্ঘদিন ভয়ে মুখ খোলেনি নির্যাতিতা। তবে তার আচরণের অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখে হস্টেলের এক শিক্ষকের সন্দেহ হয়। ওই শিক্ষকের সহানুভূতির জেরেই নাবালিকা কান্নাভেজা চোখে নিজের ওপর ঘটে যাওয়া অত্যাচারের কথা খুলে বলে। এরপরই হস্টেল কর্তৃপক্ষ চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটিকে (CWC) বিষয়টি জানায়। সিডব্লুসি-র প্রতিনিধিদের জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই কিশোরীকে নিরাপত্তার খাতিরে সরকারি হোমে স্থানান্তর করা হয়েছে।

আরও বড় চক্রের আশঙ্কা
রবীন্দ্র সরোবর থানায় জিরো এফআইআর দায়ের হওয়ার পর মামলাটি সার্ভে পার্ক থানায় স্থানান্তরিত হয়। শনিবার রাতে পুলিশ প্রসেনজিৎকে গ্রেফতার করে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, অভিযুক্তের লালসার শিকার শুধু ওই নাবালিকা নয়, হস্টেলের আরও অনেক আবাসিক হতে পারেন।

কেন এত দীর্ঘ সময় বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে গেল এবং এনজিওটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত। অভিযুক্তের বয়ান ও হস্টেলের অন্যান্য আবাসিকদের জবানবন্দি মিলিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।