তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতেই বাজিমাৎ! রাজ্যসভার প্রার্থী হয়ে চমক দিলেন তিন ‘দলবদলু’ নেতা

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে বড়সড় ভূমিকম্প! সদ্য তৃণমূলে ইস্তফা দিয়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া তিন হেভিওয়েট নেতা—সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইক—আজ আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্যসভা নির্বাচনের জন্য তাঁদের মনোনয়ন পত্র জমা দিলেন। এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতির সমীকরণে এক নতুন মোড় নিয়ে এল। গত বৃহস্পতিবারই তাঁরা ঘাসফুল শিবির ছেড়ে পদ্ম শিবিরে নাম লিখিয়েছিলেন। আর মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানেই রাজ্যসভার টিকিট পাওয়ায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।

বিজেপির অঙ্ক ও রণকৌশল:
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান বিধানসভার আসন বিন্যাসের নিরিখে এই তিন প্রার্থীর জয় এক প্রকার নিশ্চিত বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এই মুহূর্তে বিজেপির হাতে পর্যাপ্ত বিধায়ক সংখ্যা রয়েছে, যা রাজ্যসভার এই তিনটি আসনে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয়। ফলে, আনুষ্ঠানিকভাবে গণনা এবং ফলাফল ঘোষণার পরেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির রাজ্যসভা সাংসদ সংখ্যা বর্তমানের তিন থেকে বেড়ে ছয় হতে চলেছে। এটি বিজেপির সাংগঠনিক শক্তির ক্ষেত্রে এক বিশাল উত্থান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক ও জল্পনা:
তৃণমূল কংগ্রেসের একসময়ের ডাকসাইটে নেতারা কেন বিজেপিতে যোগ দিলেন এবং কেন এত দ্রুত তাঁরা রাজ্যসভার প্রার্থী হলেন—তা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে ও বাইরে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিশেষ করে সুস্মিতা দেব এবং সুখেন্দু শেখর রায়ের মতো প্রবীণ রাজনীতিবিদদের এই দলবদল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক বড় শূন্যতা তৈরি করল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিরোধীদের মতে, বিজেপির এই রণকৌশল রাজ্যস্তরে তৃণমূলের ওপর চাপ বাড়াবে এবং আসন্ন নির্বাচনগুলোতে এর প্রভাব স্পষ্ট হবে।

পরবর্তী পদক্ষেপ:
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর আজ তিন নেতাই বিজেপি নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সুখেন্দু শেখর রায় জানিয়েছেন, তিনি জনগণের স্বার্থে এবং নতুন রাজনৈতিক আদর্শে কাজ করতে উৎসুক। অন্যদিকে সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইকও বিজেপির উন্নয়নমুখী এজেন্ডা নিয়ে রাজ্যে কাজ করার সংকল্প নিয়েছেন।

আগামী দিনে রাজ্যসভার কক্ষ এই নতুন মুখদের পেয়ে কতটা উত্তাল হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে এই ঘটনা নিশ্চিত করল যে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দলবদলের হাওয়া এখন তুঙ্গে। বিজেপি যে তাদের কেন্দ্রীয় শক্তিকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যসভায় নিজেদের আসন সংখ্যা বাড়াতে মরিয়া, তা এই মনোনয়ন প্রক্রিয়াই প্রমাণ করে দিচ্ছে। এখন কেবল সরকারি ঘোষণার অপেক্ষা।