৮০ বছর বয়সেও ১৬ ঘণ্টা স্টিয়ারিংয়ে! অসুস্থ স্ত্রীর টানে আজও লড়াই করছেন এই ‘রথী’, দেখে চোখে জল নেটিজেনদের

ষাটের কোঠায় পা রাখলেই যেখানে বেশিরভাগ মানুষ অবসর জীবন কাটানোর স্বপ্ন দেখেন, সেখানে ৮০ বছর বয়সেও অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন রবীন্দ্রনাথ সরকার। বার্ধক্যের ভার আর ভাঙাচোরা শরীর নিয়ে আজও তিনি শহরের পথে ট্যাক্সি চালিয়ে চলেছেন। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাঁর জীবনযুদ্ধের গল্প প্রকাশ্যে আসতেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেরা।

সংগ্রামের নেপথ্যে:
চৈতালি বোস নামে এক যাত্রীর শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, অশীতিপর এক বৃদ্ধ অত্যন্ত সাবলীলভাবে ট্যাক্সি চালাচ্ছেন। চোখে হাই পাওয়ারের চশমা, কাঁপা কাঁপা হাত—কিন্তু স্টিয়ারিংয়ে তাঁর নিয়ন্ত্রণ এখনও অটুট। ভিডিওর মাধ্যমে জানা যায়, এই বৃদ্ধের নাম রবীন্দ্রনাথ সরকার। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই বয়সেও তিনি প্রতিদিন নিয়ম করে ১৬ ঘণ্টা ট্যাক্সি চালান। তাঁর এই কঠোর পরিশ্রমের একমাত্র কারণ—অসুস্থ স্ত্রী। নিজে অ্যাস্থমার রোগী হওয়া সত্ত্বেও তিনি থেমে থাকেননি। স্ত্রীর নিয়মিত চিকিৎসা এবং দেখভালের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে এই বৃদ্ধ আজও লড়ে চলেছেন জীবনসংগ্রামে।

অন্যান্য চালকদের চেয়ে আলাদা:
শহরের রাস্তায় যখন অ্যাপ-ক্যাব বা হলুদ ট্যাক্সি নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়ার দাবি তোলা নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা, তখন রবীন্দ্রনাথ সরকার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও তিনি অনেক সময় কম নেন। মিটারে যে ভাড়া ওঠে, তিনি যাত্রীদের বলেন, “আপনাদের যেটা ঠিক মনে হয়, সেটাই দিন।” নিজের লাভের চেয়ে তিনি যাত্রীর সুবিধার দিকেই বেশি নজর দেন। তাঁর এই উদারতা ও সততা বর্তমান সময়ে সত্যিই বিস্ময়কর।

নেটিজেনদের সহায়তার হাত:
রবীন্দ্রনাথ সরকারের এই লড়াইয়ের কথা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়তেই মানুষের মনের দুয়ার খুলে গিয়েছে। ভিডিওটি দেখে অনেকে তাঁর এবং তাঁর স্ত্রীর ওষুধের খরচ বহনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বলিউড অভিনেত্রী ডায়না পেন্টি স্বয়ং এই পোস্টের কমেন্ট সেকশনে লিখেছেন, “এই বৃদ্ধের বিষয়ে কি আরও তথ্য দেওয়া সম্ভব? অনেকেই ওঁকে সাহায্য করতে চাইবেন।” নেটপাড়ার অনেকেই তাঁর ব্যাঙ্ক ডিটেইলস জানতে চেয়েছেন যাতে সরাসরি সাহায্য পাঠানো যায়।

জীবনযুদ্ধের কঠিন বাস্তবকে রবীন্দ্রনাথ যেভাবে মোকাবিলা করছেন, তা আজও আমাদের শেখায় যে, ইচ্ছা থাকলে বয়সের বাধা কখনোই বড় হয়ে দাঁড়ায় না। একজন আদর্শ স্বামীর কর্তব্য পালনে তাঁর এই আত্মত্যাগ শুধু অনুপ্রেরণা নয়, বরং এক মানবিক দলিল হয়ে রইল।