বদলের বাংলায় রথযাত্রার রমরমা! গতবারের চেয়ে তিন গুণ বাড়ছে রথের সংখ্যা, নেপথ্যে বড় পরিকল্পনা

পশ্চিমবঙ্গে রথযাত্রার আয়োজনে আসছে বড় পরিবর্তন। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার রাজ্যে রথের সংখ্যা প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP), বজরং দল এবং আরএসএস (RSS)-এর মতো বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের উদ্যোগেই এই বিশাল রথযাত্রার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ‘বদলের বাংলা’য় উৎসবের আমেজেও যে নতুন হাওয়া লেগেছে, তা তারকেশ্বরের শ্রাবণী মেলার প্রস্তুতি দেখলেই স্পষ্ট হয়।
শ্রাবণী মেলায় ‘ধর্মসভা’র হাওয়া:
জাতীয় মেলার মর্যাদা পাওয়া তারকেশ্বরের শ্রাবণী মেলাকে এবার অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা চলছে। আগামী ১৪ জুলাই সেখানে এক বিশাল ধর্মসভার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। রিষড়া প্রেমমন্দিরের সম্পাদক নির্গুণানন্দ ব্রহ্মচারী জানিয়েছেন, এবারের শ্রাবণী মেলাটি যেন ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে পূর্ণ হয়, সেই লক্ষ্যেই তাঁরা কাজ করছেন। তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে গঙ্গাসাগর মেলার মতো বড় উৎসবের সূচনাও ধর্মসভার মাধ্যমেই করা হবে।
রাজনৈতিক সমীকরণ ও উন্নয়ন:
বিজেপি বিধায়ক সন্তু পানের নেতৃত্বে চার বিধানসভার বিধায়করা শ্রাবণী মেলাকে একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে পরিশ্রম করছেন। বিধায়কের কথায়, গত কয়েক বছর এই মেলাকে অবহেলা করা হয়েছে, তবে এবার নব রূপে ও নব সাজে শ্রাবণী মেলা ২০২৬-কে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে মেলাকে জাতীয় উৎসবের মর্যাদা দেওয়ার কাজ চলছে।
রথযাত্রার সংখ্যায় উল্লম্ফন:
গত বছর রাজ্যজুড়ে রথযাত্রার সংখ্যা ছিল এক হাজারের কিছু বেশি। কিন্তু এবছর সেই সংখ্যা অনেকটাই ছাপিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ এবং আরএসএসের লক্ষ্য—ছোট-বড় বিভিন্ন সংগঠনের মাধ্যমে গোটা রাজ্যে আরও বেশি সংখ্যক রথ রাস্তায় নামানো।
সুরক্ষা ও সতর্কবার্তা:
উৎসবের আবহ যখন তৈরি হচ্ছে, তখন সুরক্ষার বিষয়টিও উঠে এসেছে আলোচনায়। বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পূর্ব ক্ষেত্রীয় সম্পাদক অমিয় সরকার জানান, রথযাত্রা বা ধর্মীয় উৎসবগুলিকে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার হতে দেওয়া যাবে না। তাঁর মতে, সরকার বদলের পরেও কিছু মহলের কাছ থেকে আক্রমণ আসার আশঙ্কা থাকে, তাই সরকার এবং আয়োজক সংস্থা—উভয়ই সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। জগতনাথ দেবের রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে রাজ্যে যে ধর্মীয় জাগরণের চেষ্টা চলছে, তা আগামী কয়েক দিনে আরও বড় আকার ধারণ করবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহল।