চা বাগানে কি এবার তালা পড়বে? শ্রমিকদের বকেয়া মেটাতে মালিকদের কড়া আল্টিমেটাম শ্রমমন্ত্রীর!

উত্তরবঙ্গের চা শিল্পের দীর্ঘদিনের সংকট সমাধানে এবার বেনজিরভাবে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। শ্রমিকদের বকেয়া প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটির টাকা মেটানো এবং বন্ধ চা বাগানগুলো দ্রুত চালু করার জন্য বাগান মালিকদের এক মাসের চূড়ান্ত সময়সীমা বা ‘আল্টিমেটাম’ দিলেন রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং।

রবিবার উত্তরকন্যায় একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে মন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, আগামী এক মাসের মধ্যে যদি বন্ধ বাগানগুলো পুনরায় চালু না হয় এবং শ্রমিকদের আইনি পাওনা বুঝিয়ে না দেওয়া হয়, তবে সরকার আইনের সর্বোচ্চ সীমা পর্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নেবে। প্রয়োজনে দোষী মালিকদের কারাদণ্ড হতে পারে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকট খতিয়ে দেখতে রবিবার উত্তরকন্যায় ধারাবাহিক বৈঠক করেন অর্জুন সিং। এদিন প্রথম দফায় তিনি বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের ক্ষোভ ও অভাব-অভিযোগ শোনেন। এরপর দ্বিতীয় দফায় তিনি বাগান মালিকদের সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে বসেন এবং সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশিথ প্রামাণিক, অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন এবং উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

বৈঠক শেষে শ্রমমন্ত্রী পূর্বতন সরকারের আমলের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট বলেন, চা বাগানের জমি ‘টি-ট্যুরিজম’ বা চা পর্যটনের নামে অপব্যবহার করা হয়েছে। শ্রমিকদের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে জমির চরিত্র বদলের এই চক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আওতায় আনা হবে এবং দোষীদের রেয়াত করা হবে না বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, শ্রমমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর এটিই অর্জুন সিং-এর প্রথম উত্তরবঙ্গ সফর। রবিবার দুপুরে বাগডোগরা বিমানবন্দরে নামার পর তাঁকে ঘিরে দলীয় নেতা ও কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ পরিলক্ষিত হয়। ফুলের স্তবক ও স্লোগানে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। মন্ত্রীর এই কড়া অবস্থান উত্তরবঙ্গের চা বলয়ে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে, এখন দেখার বিষয় মালিকপক্ষ এক মাসের এই আল্টিমেটাম কতটা গুরুত্ব দেয়।