বিশ্বকাপ কি এবার ৬৪ দলের? শতবর্ষের আসরে বড় চমকের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব!

এতদিন ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চ ছিল ৩২ দেশের পদচারণায় মুখর। কিন্তু ২০২৬ সালের আসরে সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৮ করা হয়েছে, যা টুর্নামেন্টের উত্তেজনাকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। কুরাসাও বা কেপ ভার্দের মতো দেশগুলোর অভাবনীয় লড়াই বিশ্ববাসীকে নতুন করে আশান্বিত করেছে। এই পারফরম্যান্স দেখেই ফিফা কর্তৃপক্ষ এখন আরও বড় স্বপ্ন দেখছে। ২০৩০ সালে বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপনের প্রাক্কালে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা ৪৮ থেকে বাড়িয়ে ৬৪ করার একটি সাহসী প্রস্তাব নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

পর্তুগাল, মরক্কো ও স্পেন যৌথভাবে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। তবে বিশ্বকাপের শতবর্ষ হওয়ায় একটি করে বিশেষ ম্যাচ পাবে উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে ও আর্জেন্টিনা। এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটেই ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বিশ্বকাপের ব্যাপ্তি বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, “এই বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরেই কমিটিতে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। বিশ্বকাপ মানে শুধুমাত্র ইউরোপ বা দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিযোগিতা নয়, এটি গোটা বিশ্বের মিলনমেলা। বিশ্বের সব দেশেরই বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখা উচিত। সব দেশের ফুটবলের মান এখন আগের চেয়ে অনেক উন্নত। তাদের মূল মঞ্চে খেলার সুযোগ না দিলে তাদের উন্নতির আগ্রহ হারিয়ে যেতে পারে।”

ইনফান্তিনোর এই প্রস্তাব ফুটবলের আঙিনায় দুই মেরুর সৃষ্টি করেছে। কনমেবল সংস্থার সভাপতি আলেহান্দ্রো ডোমিঙ্গেজ এই পরিকল্পনাকে স্বাগত জানালেও, তীব্র বিরোধিতা এসেছে উয়েফা সভাপতি আলেকজান্ডার চেফেরিন এবং কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্টাগ্লিয়ানির তরফ থেকে। তাঁদের মতে, অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা বাড়লে টুর্নামেন্টের গুণমান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে ৪৮টি দল খেলছে, যেখানে মোট ম্যাচের সংখ্যা ১০৪টি। অথচ ৩২ দলের বিশ্বকাপে ম্যাচ হত মাত্র ৬৪টি। এখন ২০৩০ সালে যদি ৬৪টি দেশ অংশ নেয়, তবে ১২৮টি ম্যাচ আয়োজন করতে হবে। এত বিশাল সংখ্যক ম্যাচ আয়োজনের লজিস্টিক চাপ, সূচি নির্ধারণের জটিলতা এবং ফুটবলারদের ক্লান্তি নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন। তবে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে আমেরিকার ফুটবল সংস্থা কনমেবল যে ৬৪ দলের প্রস্তাব দিয়েছিল, তা এখন ফিফার উচ্চপর্যায়ের আলোচনার কেন্দ্রে। বিশ্বকাপের মাহাত্ম্য বজায় রেখে এই বিপুল ভার ফিফা কীভাবে বহন করবে, সেটাই এখন কোটি টাকার প্রশ্ন। ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন ফিফার সেই বহু প্রতীক্ষিত সিদ্ধান্তের দিকে।