নির্বাচনের হারের পরই পতন! লটারি জয়ীর টাকা লুঠ ও হিংসার মামলায় গ্রেফতার পানিহাটির ‘পুচি’

উত্তর চব্বিশ পরগনার পানিহাটি বিধানসভার একদা দাপুটে ঘোষ পরিবারের পতনের ছবিটা আজ আরও স্পষ্ট হলো। বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছিলেন পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষ, ওরফে ‘পুচি’। সোমবার সকালে খড়দহ থানার পুলিশ দক্ষিণেশ্বরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করেছে। ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং লটারি বিজয়ী এক ব্যক্তির কাছ থেকে কোটি টাকা ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে তাঁর খোঁজে ছিল পুলিশ।
পানিহাটি এবং সোদপুর এলাকায় তীর্থঙ্কর ঘোষের প্রতিপত্তি ছিল সর্বজনবিদিত। বিধায়ক পিতার ছায়ায় থেকে জমি দখল, তোলাবাজি এবং প্রোমোটিং চক্র চালানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অতীতে ক্ষমতার দাপটে এই সমস্ত অভিযোগ ধামাচাপা পড়ে গেলেও, বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে। এবছরের বিধানসভা নির্বাচনে পিতা নির্মল ঘোষ নিজে না দাঁড়িয়ে ছেলে তীর্থঙ্করকে প্রার্থী করেছিলেন। কিন্তু আরজি কর কাণ্ডের প্রেক্ষিতে বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথের কাছে বড় ব্যবধানে পরাজয় ঘটে তাঁর। এই পরাজয়ের পরই মূলত ঘোষ পরিবারের দাপটে ভাটা পড়ে এবং পুরনো মামলাগুলির তদন্তে গতি আসে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তীর্থঙ্করের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো লটারি কাণ্ড। অভিযোগ, স্থানীয় এক ব্যক্তি লটারিতে এক কোটি টাকা পাওয়ার পর নির্মল ঘোষ ও তাঁর ছেলে ভয় দেখিয়ে সেই অর্থ হাতিয়ে নিয়েছিলেন। এছাড়া, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক হিংসায় প্রত্যক্ষ মদত দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এতদিন এই মামলাগুলি হিমাগারে থাকলেও, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর খড়দহ থানা সক্রিয় হয়ে ওঠে।
রবিবার নির্মল ঘোষকে দলের একটি বৈঠকে দেখা যাওয়ার পর থেকেই পানিহাটিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ সরাসরি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। এর ঠিক চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণেশ্বরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খড়দহ থানার পুলিশ তীর্থঙ্করকে পাকড়াও করে। এই গ্রেফতারির পর পানিহাটি ও সোদপুর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ মনে করছেন, অপরাধের বিচারের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় পদক্ষেপ। এখন পুলিশি হেফাজতে নিয়ে তীর্থঙ্করকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই লুটতরাজ ও হিংসার নেপথ্যে আরও কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই গ্রেফতারি শুধুমাত্র একটি মামলা নয়, বরং পানিহাটির রাজনীতিতে একটি দীর্ঘ অধ্যায়ের সমাপ্তির ইঙ্গিত।