গ্রেফতার হলেই মন্ত্রিত্ব যাবে না? বড় পরিবর্তনের পথে মোদী সরকার, জানুন নতুন নিয়ম!

গ্রেফতার হওয়ার ৩০ দিন পর মন্ত্রিত্ব বাতিলের প্রচলিত বিধান নিয়ে বড়সড় পরিবর্তনের সুপারিশ করল যৌথ সংসদীয় কমিটি। এতদিন নিয়ম ছিল, কোনো মন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী টানা ৩০ দিন হেফাজতে থাকলেই তাঁকে পদ থেকে সরতে হতো। এবার সেই কঠোর নিয়মে বদল এনে ‘সাসপেনশন’ বা সাময়িক বরখাস্তের নতুন পদ্ধতির প্রস্তাব দিল বিজেপি সাংসদ অপরাজিতা সারঙ্গির নেতৃত্বাধীন এই কমিটি।
কমিটির সুপারিশের মূল দিকগুলি একনজরে:
অপসারণ নয়, সাময়িক স্থগিতাদেশ: কমিটি জানিয়েছে, গ্রেফতারের পর কাউকে সরাসরি পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি অপূরণীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই পুরোপুরি ‘অপসারণ’-এর বদলে সরকারি চাকুরিজীবীদের মতো ‘সাসপেনশন’ পদ্ধতি চালু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ফিরে আসার সুযোগ: কোনো মন্ত্রী যদি আইনি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত নির্দোষ প্রমাণিত হন বা মামলা থেকে মুক্তি পান, তবে তাঁর সাসপেনশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে উঠে যাবে। তিনি পুনরায় তাঁর পুরনো পদে বহাল হতে পারবেন।
ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট: সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তিদের বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে ‘ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট’ গঠনের ওপর জোর দিয়েছে কমিটি। মামলা ঝুলে থাকা আটকাতেই এই উদ্যোগ।
নির্দিষ্ট অপরাধের তালিকা: সব মামলায় এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। কেবল যে সমস্ত অপরাধে ন্যূনতম ৫ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে, সেগুলিকে এই ‘গুরুতর অপরাধ’-এর তালিকার অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
কেন এই পরিবর্তনের পথে সংসদ?
২০২৫ সালের আগস্টে মোদী সরকার এই সংবিধান সংশোধনী বিলটি পেশ করলে বিরোধীরা এর তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মেটাতে কেন্দ্র এই আইনকে হাতিয়ার করে বিরোধী শাসিত রাজ্যের মন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীদের আসনচ্যুত করতে পারে। সেই বিতর্ক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রশমিত করতেই কমিটি এই সংশোধিত সুপারিশগুলি পেশ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আগামী সপ্তাহেই সংসদীয় যৌথ কমিটির এই চূড়ান্ত রিপোর্ট সংসদে পেশ হওয়ার কথা রয়েছে। এই বিল যদি শেষ পর্যন্ত আইনে পরিণত হয়, তবে তা ভারতীয় রাজনীতিতে এক বড় নজির হয়ে থাকবে।