‘ডেপুটেশন নয়, এখন থেরাপির সময়!’ নিশীথ প্রামাণিকের মন্তব্যে তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক

রাজ্যের মন্ত্রী হয়েও একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে ‘থেরাপি’ দেওয়ার নিদান! উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের জেরে উত্তাল কোচবিহারের রাজনৈতিক মহল। সরকারি পদে থেকে মন্ত্রীর এমন ভাষা ও আচরণের তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

ঠিক কী ঘটেছিল? কোচবিহার শহরের নাগরিক পরিষেবা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সম্প্রতি সোচ্চার হয় বিজেপি। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে তৃণমূল কাউন্সিলররা পুরসভায় যাচ্ছেন না, ফলে স্তব্ধ নাগরিক পরিষেবা। এই প্রেক্ষিতে বিজেপি নেতারা পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ সাহার পদত্যাগের দাবি তোলেন। এর জবাবে পুরপ্রধান দিলীপ সাহা সাফ জানান, “ওঁদের কোনও দাবিদাওয়া থাকলে ডেপুটেশন দেওয়া উচিত।”

মন্ত্রীর বিস্ফোরক নিদান: পুরপ্রধানের এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক বলেন, “আমি শুনেছি, বিজেপির নেতা-কর্মীদের নাকি ডেপুটেশন দিতে বলা হয়েছে। বিজেপির এতটাও খারাপ দিন আসেনি যে পুরসভায় ডেপুটেশন দিতে যাবে। এখন তো থেরাপি দেওয়ার সময়! যারা এসব কথা বলছেন, তাঁরা একটু বুঝে শুনে বলবেন। আমাদের কর্মীরা একবার থেরাপি দেওয়া শুরু করলে, ওদের থামানো মুশকিল হয়ে যাবে।”

রাজনৈতিক বিতর্ক: একজন মন্ত্রী হিসেবে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করা কতটা শোভনীয়, তা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। যদিও এই বিষয়ে কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান দিলীপ সাহা সতর্ক প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেন, “মন্ত্রী কোন পরিস্থিতিতে এই মন্তব্য করেছেন, তা না জেনে আমি কোনও মন্তব্য করব না।”

জলমগ্ন কোচবিহার ও নিকাশি সমস্যা: নিশীথের এই মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক যখন তুঙ্গে, তখন শহরের জ্বলন্ত সমস্যা নিকাশি নিয়েও সরব হতে দেখা যায় তাঁকে। বর্ষার শুরু থেকেই টানা বৃষ্টিতে কোচবিহারের জনজীবন বিপর্যস্ত। শহরের জলনিকাশি ব্যবস্থার ভগ্নদশা নিয়ে মন্ত্রী স্বীকার করেন, রাজার শহর কোচবিহারের নিকাশি ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো এখন সময়ের দাবি।

কোচবিহারে রাজনৈতিক উত্তাপের পাশাপাশি প্রবল বর্ষণ ও জলমগ্ন এলাকা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। মন্ত্রীর ‘থেরাপি’ বিতর্ক এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন ঘি ঢালল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।