সরকারি স্টল পাইয়ে দেওয়ার নামে তোলাবাজি! ৩৫ ব্যবসায়ীর টাকা ফেরালেন তৃণমূল নেতা

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল নেতানেত্রীদের বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ যেন পিছু ছাড়ছে না। কোথাও ক্ষুব্ধ জনতার বিক্ষোভ, কোথাও বা ‘ডিম ছোড়া’—এই পরিস্থিতির মধ্যেই এবার কোচবিহারের নাজিরহাটে প্রকাশ্যে এল কাটমানি ফেরতের ঘটনা। সরকারি স্টল পাইয়ে দেওয়ার নাম করে নেওয়া টাকা ফেরত দিলেন নাজিরহাট অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন চেয়ারম্যান রামচন্দ্র ঘোষ।

কী ঘটেছিল নাজিরহাটে?

প্রায় এক বছর আগে নাজিরহাট বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সরকারি স্টল তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়। অভিযোগ, সেই সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের স্টল পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেন তৎকালীন অঞ্চল চেয়ারম্যান রামচন্দ্র ঘোষ। অভিযোগ, ব্যবসায়ীদের উপর চাপ সৃষ্টি করেই এই টাকা আদায় করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতির বদল ঘটায় ব্যবসায়ীরা একজোট হয়ে তাঁদের টাকা ফেরতের দাবি তোলেন। অবশেষে বৃহস্পতিবার নাজিরহাট বাজারে আয়োজিত এক বিশেষ শিবিরে ৩৫ জন ব্যবসায়ীর হাতে মোট ৪ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা তুলে দেওয়া হয়।

নেতার সাফাই বনাম বিরোধীদের প্রশ্ন

টাকা ফেরতের পর রামচন্দ্র ঘোষের দাবি, ওই টাকা নেওয়া হয়েছিল মূলত বাজার উদ্বোধনের অনুষ্ঠানের খরচের জন্য। তিনি বলেন, “বিবেকের তাড়নায় আমি সমস্ত টাকা ফেরত দিয়েছি। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।”

তবে তাঁর এই ব্যাখ্যায় খুব একটা সন্তুষ্ট নয় স্থানীয় মানুষজন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যজুড়ে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে ‘ডিম থেরাপি’ বা গণবিক্ষোভের যে ছবি দেখা যাচ্ছে, সেই আতঙ্কেই কি শেষ পর্যন্ত টাকা ফেরাতে বাধ্য হলেন তিনি? এই প্রশ্নই এখন নাজিরহাট জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া

দীর্ঘদিন পর টাকা হাতে পেয়ে ব্যবসায়ীরা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন। তাঁদের কথায়, এতদিন প্রতিবাদ করার সাহস বা পরিস্থিতি ছিল না। তবে এখন সময় বদলানোয় তাঁরা নিজেদের পাওনা টাকা ফেরত পেয়েছেন।

কাটমানি বা তোলাবাজির মতো ঘটনায় স্থানীয় নেতাদের বিরুদ্ধে জনরোষ যে ক্রমশ বাড়ছে, নাজিরহাটের এই ঘটনা তারই ইঙ্গিত বলে মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।