জামিনে ছাড়া পেয়েই এক রাতে ৬ খুন! পকসো মামলার আসামির বিভীষিকাময় প্রতিশোধ?

জামিনে মুক্তি পাওয়ার মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই এক বিভীষিকাময় হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী হলো তেলঙ্গানার রাঙ্গা রেড্ডি জেলা। পকসো মামলায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রী, দুই শিশু সন্তান এবং তাঁকে অভিযুক্তকারী কিশোরী ও তাঁর পরিবারের দুই সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
হত্যাকাণ্ডের নৃশংস চিত্র: পুলিশ সূত্রে খবর, শুক্রবার গভীর রাতে অভিযুক্ত প্রথমে নিজের বাড়িতে প্রবেশ করে। সেখানে সে তাঁর স্ত্রী এবং দুই শিশুপুত্রকে (বয়স ৪ ও ১ বছর) ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুন করে। এরপর সে সোজা চলে যায় সেই ১৭ বছর বয়সি কিশোরীর বাড়িতে, যার অভিযোগের ভিত্তিতে গত মে মাসে তার বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের হয়েছিল। অভিযোগ, কিশোরীকে জোর করে গাড়িতে তুলে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে সে খুন করে। এরপর পুনরায় কিশোরীর বাড়িতে ফিরে তাঁর মা ও ঠাকুমাকেও হত্যা করে অভিযুক্ত। তবে আশ্চর্যের বিষয়, বাড়িতে উপস্থিত কিশোরীর বিশেষভাবে সক্ষম দিদিকে সে আক্রমণ করেনি।
আগেও ছিল অপরাধের রেকর্ড: পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গত ১৬ মে পকসো আইনে মামলা দায়ের হয়েছিল। ১৭ বছরের ওই কিশোরীকে অনুসরণ ও যৌন হেনস্থার অভিযোগে তাকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। তবে জামিনে মুক্তি পাওয়ার মাত্র সাত দিনের মধ্যেই সে এই ভয়াবহ কাণ্ড ঘটাল।
তদন্তে পুলিশ: খুনের ঘটনার পর অভিযুক্ত নিজের বাবাকে ফোন করে সমস্ত ঘটনা স্বীকার করে। এরপরই মোবাইল বন্ধ করে সে চম্পট দেয়। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ঘটনার পর সে আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিল। অভিযুক্তকে ধরতে গঠন করা হয়েছে বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)।
মানসিক ও ব্যক্তিগত সমস্যা: পরিবার সূত্রে দাবি, অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরেই মানসিক সমস্যায় ভুগছিল এবং তার জুয়ার নেশাও ছিল। এর আগেও তাকে কাউন্সেলিং করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে তার বিয়ে হয় এবং তাদের প্রথম সন্তান অল্প বয়সেই মারা গিয়েছিল। একের পর এক নৃশংসতায় অভিযুক্তের মানসিক সুস্থতা নিয়েও উঠছে বড় প্রশ্ন। বর্তমানে তাকে খুঁজে বের করতে তল্লাশি অভিযান জোরদার করেছে তেলঙ্গানা পুলিশ।