বদলে যেতে চলেছে ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থা? এক দেশ এক ভোটের খসড়া নিয়ে জেপিসির বড় আপডেট জানুন

ভারতের নির্বাচনী ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে চলেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। ‘এক দেশ এক ভোট’ (One Nation, One Election) নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত ডিসেম্বর মাসে লোকসভায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করা হয়। এই বিলের খুঁটিনাটি পর্যালোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সংসদের যৌথ কমিটিকে (JPC)। তবে সংসদের আসন্ন বাদল অধিবেশনে এই বিলটি পেশ হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ, কারণ জেপিসি এখনও বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভার মতামত সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত রয়েছে।
এই প্রকল্পের ভিত্তি তৈরি হয়েছে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নেতৃত্বাধীন আট সদস্যের কমিটির দেওয়া ১৮ হাজার পাতার রিপোর্টের ওপর। কমিটির মূল প্রস্তাব অনুযায়ী, লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে এবং তার ১০০ দিনের মধ্যে পঞ্চায়েত ও পুরসভার নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। জেপিসি চেয়ারম্যান প্রেম প্রসাদ চৌধুরির দাবি, এই নীতি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে এবং জিডিপির হার ১.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করতে হলে সংবিধানের মোট ১৮টি ধারায় সংশোধন আনতে হবে, যার অনেকগুলোর জন্যই রাজ্য বিধানসভাগুলোর অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, এই প্রক্রিয়ার জন্য প্রতি ১৫ বছরে শুধুমাত্র ইভিএম (EVM) কেনা বাবদ ১০ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। বর্তমান ইভিএমগুলোর আয়ু ১৫ বছর, অর্থাৎ একটি সেট তিনটি নির্বাচনে ব্যবহারযোগ্য।
কেন এই আইন নিয়ে কেন্দ্র এত মরিয়া? বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভারতের মতো বিশাল দেশে ঘনঘন নির্বাচন উন্নয়নের পথে বড় বাধা। ‘এক দেশ এক ভোট’ বাস্তবায়িত হলে একাধিক সুবিধা পাওয়া সম্ভব:
আর্থিক সাশ্রয়: বারবার নির্বাচন আয়োজন ও সুরক্ষার পেছনে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়, তা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা যাবে।
সুশৃঙ্খল শাসন: নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি (MCC) বারবার প্রয়োগ হওয়ায় সরকারি কাজে যে স্থবিরতা আসে, তা থেকে মুক্তি মিলবে।
দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা: নির্বাচনের চক্রে আটকে থেকে সরকারগুলো অনেক সময় স্বল্পমেয়াদী জনমোহিনী পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়। এককালীন নির্বাচনের ফলে সরকার দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের দিকে মন দিতে পারবে।
অচলাবস্থার অবসান: ঘনঘন নির্বাচনের ফলে সংসদীয় কার্যক্রমে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়, তা কাটিয়ে কৃষি বা শ্রম সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করা সহজ হবে।
সামাজিক অবক্ষয় রোধ: বারবার নির্বাচনের ফলে অনেক সময় জাতিভেদ বা দুর্নীতির প্রবণতা বাড়ে। এককালীন নির্বাচনের মাধ্যমে এই সমস্যা প্রশমনের আশা করা হচ্ছে।
যদিও সমালোচকরা দাবি করছেন এটি ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে দুর্বল করতে পারে, কিন্তু সরকারের যুক্তি হলো—এটি জাতীয় ও রাজ্য সরকারের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে নীতি বাস্তবায়নের গতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে। এখন দেশবাসীর নজর জেপিসির চূড়ান্ত রিপোর্টের দিকে।