পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে এক অদ্ভুত রহস্য! কেন এখানে একাদশীর দিনেও প্রসাদ হিসেবে মেলে ভাত?

রথযাত্রার মাহেন্দ্রক্ষণ সমাগত। আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে প্রতি বছর ওড়িশার পুরীতে ধুমধাম করে পালিত হয় ভগবান জগন্নাথের রথযাত্রা। এ বছর ১৬ জুলাই ভগবান জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রা তাঁদের মাসির বাড়ি তথা গুণ্ডিচা মন্দিরে পাড়ি দেবেন। লাখো লাখো ভক্তের সমাগমে মুখরিত হয় পুরীর রাজপথ। তবে পুরীর জগন্নাথ মন্দির কেবল উৎসবের জন্য নয়, বরং তার অগণিত অলৌকিক রহস্যের জন্যও বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এমনই এক চমকপ্রদ রহস্য লুকিয়ে আছে মন্দিরের একাদশী তিথির ব্রত পালনের বিধানে।
সারা দেশে একাদশীর দিনে হিন্দুধর্মাবলম্বীরা ব্রত পালন করেন এবং এই দিনে অন্ন বা চাল গ্রহণ করা শাস্ত্রীয়ভাবে নিষিদ্ধ। কিন্তু পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে একাদশীর দিনেও ভগবানকে অন্ন তথা ভাতের ভোগ দেওয়া হয় এবং ভক্তরা মহা প্রসাদ হিসেবে সেই ভাত গ্রহণ করেন। জগন্নাথ ধামে একাদশীর দিন অন্ন গ্রহণ করা পাপ নয়, বরং পরম পুণ্যের কাজ বলে গণ্য হয়। এই ব্যতিক্রমী প্রথার পেছনে জড়িয়ে আছে এক প্রাচীন পৌরাণিক কাহিনি।
প্রবাদ আছে, একদা সৃষ্টি কর্তা ব্রহ্মা স্বয়ং জগন্নাথ দেবের দর্শন এবং মহাপ্রসাদ গ্রহণের অভিলাষে পুরীতে উপস্থিত হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি পৌঁছানোর আগেই মহাপ্রসাদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। মন্দিরের এক কোণে পড়ে থাকা একটি পাতায় লেগে থাকা কিছু চালের দানা এক কুকুর চাটছিল। ভগবানের প্রতি অসীম ভক্তি ও আকর্ষণে ব্রহ্মা সেই কুকুরের পাশেই বসে পরম তৃপ্তিতে সেই চালের দানা গ্রহণ করতে শুরু করেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই সেখানে একাদশী মাতা আবির্ভূত হন। একাদশী তিথিতে অন্ন গ্রহণের কারণে তিনি ব্রহ্মা দেবকে সতর্ক করতে চাইলে, স্বয়ং জগন্নাথ দেব সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁকে থামিয়ে দেন।
জগন্নাথ দেব একাদশী মাতাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “আমার ধামে কোনো নিয়ম বা তিথির বন্ধন ভক্তির ঊর্ধ্বে নয়। এখানে ভক্তিই শেষ কথা।” ভগবান আরও ঘোষণা করেন যে, তাঁর মহাপ্রসাদ সকল প্রকার শাস্ত্রীয় নিয়মের ঊর্ধ্বে এবং তা সর্বদা গ্রহণে কোনো বাধা নেই। এরপর সেই প্রথাকে অটল রাখতে ভগবান জগন্নাথ একাদশী মাতাকে মন্দিরের পেছনে উল্টো করে ঝুলিয়ে দেন। সেই থেকে পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে উল্টো একাদশীর প্রথা চলে আসছে। এই প্রথা কেবল একটি নিয়ম নয়, বরং এটি প্রমাণ করে যে ভগবান জগন্নাথের ধামে মানুষের ভক্তিই একমাত্র সত্য। রথযাত্রার এই পবিত্র দিনে লক্ষ লক্ষ ভক্ত মনে করেন, জগন্নাথ দেবের কৃপা লাভ করলে জীবনের সব বাধা নিমেষেই কেটে যায়।