নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়ানোয় চরম পদক্ষেপ সায়নীর, তাপস মণ্ডলকে আইনি নোটিস!

নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে ‘মিডলম্যান’ হিসেবে পরিচিত তাপস মণ্ডলের গ্রেফতারির পর থেকেই রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত। গ্রেফতারির পর তাপস মণ্ডল একাধিকবার তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং সায়নী ঘোষের মতো ব্যক্তিত্বদের নাম জড়িয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। বিশেষ করে, সায়নীকে নিয়ে তাঁর করা ‘কুন্তল ঘোষের খরচে জীবনযাপন’ সংক্রান্ত মন্তব্যের জেরে এবার পালটা আইনি পথে হাঁটলেন সায়নী ঘোষ। তাপস মণ্ডলের বিরুদ্ধে সরাসরি মানহানির নোটিস (Defamation Notice) পাঠালেন তিনি।

সায়নী ঘোষের অভিযোগ, তাপস মণ্ডল কোনো প্রমাণ ছাড়াই বারবার তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, ফ্ল্যাট ক্রয় এবং রাজনৈতিক যোগসূত্র নিয়ে জনসমক্ষে ভিত্তিহীন ও কুরুচিকর মন্তব্য করে আসছেন। এ বিষয়ে সায়নী বলেন, “বিগত কয়েকদিন ধরে তাপস মণ্ডল লাগাতার যে বিস্ফোরক মন্তব্য করছেন, তা নতুন নয়। এর আগেও আমার ফ্ল্যাট কেনা বা রাজনৈতিক অ্যাসোসিয়েশন নিয়ে তিনি ক্যামেরার সামনে ঝুড়ি ঝুড়ি ভিত্তিহীন কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছেন। তাঁর এই মিথ্যাচারের কারণে ২০২৩ সালে আমাকে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। আমি তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করে ৫০০ পাতার নথি জমা দিয়েছিলাম। এরপর এজেন্সি আমাকে আর কোনো তলব করেনি এবং কোনো দুর্নীতির সাথে আমার কোনো সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়নি।”

সায়নী আরও বলেন, “একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমি যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। আমি চাই না আমার ইমেজ বা আমাকে নিয়ে মানুষের মনে কোনো সংশয় তৈরি হোক। তাপসবাবু একজন ‘রিপিট অফেন্ডার’। কোনো ভিত্তি ছাড়া যে কারুর নামে কুৎসা রটানো অত্যন্ত অনুচিত। সেই কারণেই আমি তাঁকে মানহানির নোটিস পাঠিয়েছি। বাই পোস্টে সেই চিঠি তাঁর বাড়িতে পৌঁছেছে। আমি আশা করছি তিনি এই নোটিসের উত্তর দেবেন। যদি তিনি কমপ্লাই না করেন, তবে আগামী দিনে আইনানুগ যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার, আমি সেটা নেব এবং প্রয়োজনে আদালত পর্যন্ত যাব।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, সায়নীর এই কঠোর অবস্থান নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত বিতর্কে এক নতুন মোড় নিল। তাপস মণ্ডলের মন্তব্যের কোনো প্রমাণ না থাকায় সায়নী এখন আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে নিজের স্বচ্ছতা প্রমাণে মরিয়া। এখন দেখার বিষয়, আইনি নোটিসের প্রেক্ষিতে তাপস মণ্ডল কী প্রতিক্রিয়া জানান বা এরপর তদন্তের অভিমুখ কোন দিকে মোড় নেয়।