সুইগির কপালে চিন্তার ভাঁজ! পচা-মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার ডেলিভারি, কড়া শাস্তির মুখে ইনস্টামার্ট

গ্রাহকদের কাছে পচা, মেয়াদোত্তীর্ণ এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগে বড়সড় আইনি বিপাকে জনপ্রিয় কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্ম সুইগি ইনস্টামার্ট। ভারতের খাদ্য সুরক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া’ (FSSAI) সংস্থাটিকে মোট ৯টি শোকজ নোটিস পাঠিয়েছে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে এফএসএসএআই স্পষ্ট জানিয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়া গেলে সুইগির বিরুদ্ধে খাদ্য নিরাপত্তা আইন অনুযায়ী কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। একাধিক গ্রাহক অভিযোগ জানিয়েছেন যে, সুইগি ইনস্টামার্টের মাধ্যমে তাঁরা যেসব পণ্য হাতে পেয়েছেন, তার অধিকাংশেরই মেয়াদ অনেক আগেই উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে খাবার এতটাই পচে গিয়েছিল যে তা থেকে দুর্গন্ধ বেরোচ্ছিল এবং তাতে দূষণের স্পষ্ট চিহ্ন ছিল। এফএসএসএআই-এর কাছে জমা পড়া সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো একটি শিশুখাদ্য সরবরাহ। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল শিশুখাদ্য চরম অস্বাস্থ্যকর ও দূষিত অবস্থায় পাঠানো হয়েছিল। অবাক করা বিষয় হলো, গ্রাহক যখন সেই ত্রুটিপূর্ণ পণ্যটি ফেরত দেন, তখনও সংস্থাটি একইভাবে আরেকটি দূষিত পণ্যই পুনরায় পাঠায়।
শুধু খাবারের গুণমান নয়, আইনি নথিপত্রেও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এফএসএসএআই-এর নোটিসে বলা হয়েছে, সুইগি ইনস্টামার্টের প্ল্যাটফর্মে অনেক বিক্রেতা ভুল, অবৈধ অথবা অস্তিত্বহীন লাইসেন্স নম্বর ব্যবহার করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের নাম গোপন রেখে অন্য নামে ব্যবসায়িক লেনদেন চলছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে, সুইগির বিক্রেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া, লাইসেন্স যাচাইকরণ, পণ্যের স্টক ম্যানেজমেন্ট এবং গ্রাহক অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই গভীর গাফিলতি রয়েছে। অনেক সময় গ্রাহক অভিযোগ জানালে কেবল টাকা ফেরত দিয়েই দায় ঝেড়ে ফেলা হয়েছে, কিন্তু খাদ্য নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো স্থায়ী সমাধান নেওয়া হয়নি।
এফএসএসএআই এখন সুইগি ইনস্টামার্টের কাছে তাদের গুণমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, খাদ্য সংরক্ষণ ও পরিবহণ পদ্ধতি, স্টক রোটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে। ভবিষ্যতে এই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সংস্থাটি কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্যও জমা দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই নোটিসের উত্তর না পেলে লাইসেন্স বাতিল থেকে শুরু করে বিশাল অঙ্কের জরিমানা—আইনের পথে হাঁটতে প্রস্তুত খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর। এই ঘটনায় কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ গ্রাহকরা।