অভিষেকের ‘সেবাশ্রয়’ কি মরণফাঁদ? ভুল চিকিৎসায় পা খোয়ালেন বৃদ্ধা, দায়ের FIR!

মানুষের সেবার নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প ‘সেবাশ্রয়’। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনের পরেই এই মডেল প্রকল্পের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার জগৎ এবং ভয়ঙ্কর দুর্নীতির চিত্র এখন জনসমক্ষে। মানুষের চিকিৎসার নামে এই ক্যাম্পে যে চরম অবহেলা ও প্রতারণার ব্যবসা চলত, তা বর্তমানে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ মোট ১১ জনের বিরুদ্ধে FIR দায়ের হওয়ায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।

ঘটনার সূত্রপাত দক্ষিণ ২৪ পরগনার রবীন্দ্রনগরের বাসিন্দা ৫৮ বছরের মালতী বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে। হাঁটুর ব্যথা নিয়ে তিনি যখন সেবাশ্রয় ক্যাম্পে চিকিৎসার আশায় যান, তখন কল্পনাও করেননি যে এই যাত্রাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হয়ে উঠবে। অভিযোগ, সেবাশ্রয় ক্যাম্পের চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসার কারণেই শেষ পর্যন্ত তাঁর ডান পা কেটে বাদ দিতে হয়।

২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মালতী দেবী প্রথমবার সেবাশ্রয় ক্যাম্পে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেন। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সেই চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে কোনো সই বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছিল না, এমনকি তারিখ পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়নি। সেই ওষুধ খেয়ে উপশম তো দূর, উল্টে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। ৮ ফেব্রুয়ারি ফের ক্যাম্পে গেলেও সমস্যার সমাধান মেলেনি। এরপর তাঁকে সরকারি হাসপাতালে রেফার করা হয়। এম আর বাঙুর থেকে চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে দীর্ঘ চিকিৎসার পর ২৭ মে অস্ত্রোপচার করে তাঁর ডান পা বাদ দিতে বাধ্য হন চিকিৎসকরা। মালতী দেবীর স্বামীর আক্ষেপ, “ওরা ভুল চিকিৎসা করেছিল, আর সেই ওষুধের বিষক্রিয়াতেই পায়ের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।”

শুধু মালতী দেবীই নন, একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন সরিষার কলেজছাত্রী সুস্মিতা অধিকারী। তাঁকে ভুলভাবে অ্যাপেনডিক্সের অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়ে ভয় দেখানো হয়েছিল। পরবর্তীতে বাইরে অন্য চিকিৎসক দেখিয়ে ইউএসজি করালে জানা যায়, তাঁর শরীরে কোনো সমস্যাই নেই।

সেবাশ্রয় ক্যাম্পের অন্দরের এই জালিয়াতি প্রসঙ্গে মালতী দেবী আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি জানান, প্রথমবার দেখার পরই চিকিৎসক তাঁর কাছে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দাবি করেছিলেন। তিনি চিকিৎসক কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুললে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেবার আড়ালে এই ক্যাম্পে কোনো প্রকৃত চিকিৎসক নয়, বরং অসাধু চক্রের সদস্যরা সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে টাকা হাতানোর কারবারে ব্যস্ত ছিল। এই ঘটনা এখন শুধু মালতী বিশ্বাসের ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং সরকারি প্রকল্পের নামে চলা এক ভয়াবহ দুর্নীতির মুখোশ খুলে দিয়েছে। পুলিশি তদন্ত শুরু হলেও, এই চক্রের সাথে আর কারা যুক্ত, তা নিয়ে সরব হয়েছেন এলাকাবাসী।