লালকেল্লা উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি! মুম্বই পুলিশের ফোনে দিল্লি জুড়ে হাই অ্যালার্ট

শনিবার আবারও নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় কেঁপে উঠল রাজধানী দিল্লি। এদিন মুম্বই পুলিশের কাছে একটি অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির কাছ থেকে ফোন আসে, যেখানে দাবি করা হয় যে দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লা উড়িয়ে দেওয়া হবে। এই খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মুম্বই পুলিশ দিল্লি পুলিশের কন্ট্রোল রুমকে বিষয়টি অবহিত করে। মুহূর্তের মধ্যে সক্রিয় হয়ে ওঠে দিল্লি পুলিশ। জরুরি ভিত্তিতে শুরু হয় তদন্ত। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর পুলিশ নিশ্চিত করে যে, ফোনটি সম্পূর্ণ ভুয়ো ছিল এবং আতঙ্ক ছড়ানোর জন্যই এটি করা হয়েছিল। তবে ঘটনার পর দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে দিল্লিকে কেন্দ্র করে একাধিকবার এ ধরনের হুমকির ঘটনা ঘটেছে। গত মাসেই দিল্লি পুরসভার (এমসিডি) মেয়রের সরকারি ই-মেল অ্যাকাউন্টে একটি হুমকি বার্তা পাঠানো হয়েছিল। সেই মেলে দিল্লি এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে বিস্ফোরণের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই ঘটনার পর দমকল বাহিনী, বম্ব স্কোয়াড এবং দিল্লি পুলিশ মিলে সিভিক সেন্টার চত্বরে ব্যাপক তল্লাশি চালায়। পার্কিং থেকে শুরু করে প্রতিটি কক্ষ তন্ন তন্ন করে খোঁজা হয়, তবে শেষ পর্যন্ত কোনও বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলির নিয়ম অনুযায়ী, দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা সরকারি ভবনগুলোতে হুমকি পেলেই তারা কোনো ঝুঁকি না নিয়ে দ্রুত প্রোটোকল মেনে তল্লাশি চালায়। জননিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। যদিও এই ধরণের ফোন বা মেলগুলোর বেশিরভাগই ভুয়ো প্রমাণিত হয়, তবু প্রতিবারই প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে থাকে।

পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, দিল্লির পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা কঠোর করা হয়েছে এবং যে বা যারা এই ধরণের বিভ্রান্তিকর ও ভীতিজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে, তাদের চিহ্নিত করতে তদন্ত চলছে। সাইবার অপরাধীরা প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভুয়া খবর ছড়াচ্ছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।